×

আন্তর্জাতিক

কোথায় গিয়ে থামবে জেন-জিদের আন্দোলন

Icon

মাহিদুল হোসেন সানি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

কোথায় গিয়ে থামবে জেন-জিদের আন্দোলন

ছবি: সংগৃহীত

‘জেন-জি আন্দোলন’ কোনো একক সংগঠন বা নির্দিষ্ট কোনো আন্দোলনের নাম নয় বরং বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদের একটি সামগ্রিক পরিচিতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম এখন ডিজিটাল দুনিয়া পেরিয়ে রাজপথেও নিজেদের বলিষ্ঠ উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

দুর্নীতি, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য, মূল্যস্ফীতি, সরকারি সেবার দুর্বলতা, রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশ্বের নানা প্রান্তে তরুণেরা আজ সোচ্চার। জেন-জি আন্দোলনের শিকড় সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিভিন্ন তরুণ-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে ছড়িয়ে থাকলেও, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও কেনিয়ার ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর এটি বৈশ্বিকভাবে বিশেষ পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভ করে।

জেন-জি আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের ব্যানার বা প্রথাগত নেতৃত্বের অধীন নয়। ফেসবুক, টিকটক, ওয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, মিম, ছোট ভিডিও এবং ডিজিটাল প্রচারণাকে হাতিয়ার করে তরুণেরা অভাবনীয় দ্রুততায় সংগঠিত হচ্ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের স্থানীয় ক্ষোভগুলো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে শক্তিশালী জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে।

জেন-জিদের আন্দোলনের ইতিহাস:

থাইল্যান্ড ২০২০: গণতন্ত্র ও সংস্কারের দাবিতে

২০২০ সালে থাইল্যান্ডে তরুণদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতন্ত্রের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে ওঠে। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি সামনে রেখে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পূর্বসূরি হিসেবে এ ঘটনাকে প্রায়ই আলোচনায় আনা হয়।


হংকং ২০২০: রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্ন

২০২০ সালে হংকংয়েও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা আইনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণে আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায়। এশিয়ার তরুণদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার ধারাবাহিকতায় হংকংয়ের ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


শ্রীলঙ্কা ২০২২: অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ‘আরাগালায়া’

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ব্যর্থতার বিরুদ্ধে শুরু হয় ‘আরাগালায়া’ আন্দোলন। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই বিক্ষোভ দ্রুত ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। শ্রীলঙ্কার এই অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক দুরবস্থা কীভাবে তরুণদের নেতৃত্বে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।


ইরান ২০২২: অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে তরুণরা

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নারীর অধিকার, সামাজিক স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন সরকারি বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে তরুণদের বড় অংশ আন্দোলনে যুক্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনের খবর দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। তরুণদের সক্রিয়তা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এ আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।


২০২৪ সালে বাংলাদেশ: কোটা সংস্কার থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকে এবং এটি বৃহত্তর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের আন্দোলনে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং অনলাইনভিত্তিক সমন্বয় আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।


২০২৪ সালে কেনিয়া: করবিরোধী বিক্ষোভ

২০২৪ সালের জুনে কেনিয়ায় সরকারের প্রস্তাবিত ফাইন্যান্স বিলের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, বেকারত্ব ও দুর্নীতির মতো বিষয়ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হয়ে তরুণরা রাজপথে নেমে আসে। ২৫ জুন আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করেন। ব্যাপক চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত ফাইন্যান্স বিল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।


২০২৪ সালে সার্বিয়া: দুর্নীতি ও জবাবদিহির দাবিতে

২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। নভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনার পর সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশের দাবি আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রে ছিল।


২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া: অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে অসন্তোষ

২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ দেখা যায়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় সহজ হয়। এ আন্দোলনও দেখিয়েছে, একই প্রজন্মের ক্ষোভ বিভিন্ন দেশে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন দাবিতে প্রকাশ পেতে পারে।


২০২৫ সালে নেপাল: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্দোলন

২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও সুশাসনের দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে আন্দোলন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। নেপালের ঘটনা তরুণদের ডিজিটাল সংগঠন, স্বতঃস্ফূর্ত নেতৃত্ব এবং দ্রুত রাজপথে সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।


২০২৫ সালে মাদাগাস্কার: পানি ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন

২০২৫ সালে মাদাগাস্কারে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের সংকটকে কেন্দ্র করে তরুণদের বিক্ষোভ শুরু হয়। জীবনযাত্রার দুরবস্থা এবং সরকারের কার্যকারিতা নিয়েও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আন্দোলন বৃহত্তর সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। আফ্রিকার তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অসন্তোষের আলোচনায় মাদাগাস্কারের ঘটনাটিও গুরুত্ব পায়।


২০২৫ সালে মরক্কো: ‘Gen Z 212’-এর দাবি

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মরক্কোয় ‘Gen Z 212’ নামে পরিচিত তরুণদের আন্দোলন আলোচনায় আসে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব মোকাবিলা এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে আন্দোলনকারীরা। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকার বিষয়টিও তরুণদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।


২০২৫ সালে পেরু: দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পেরুতেও তরুণদের অংশগ্রহণে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা যায়। দুর্নীতি, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক অসন্তোষ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পেনশন সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় আন্দোলনে গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠন আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।


২০২৫ সালে ফিলিপাইন: সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

২০২৫ সালে ফিলিপাইনে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হয়। বিশেষ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে এবং তরুণদের বড় অংশ এতে যুক্ত হয়।


বিশ্বজুড়ে তরুণদের জাগরণ ও ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া এসব আন্দোলনকে হুবহু একই আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; কারণ প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা আলাদা। বাংলাদেশের কোটা সংস্কার, কেনিয়ার করবিরোধী আন্দোলন, সার্বিয়ার দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ, নেপালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কিংবা মরক্কোর স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাত নিয়ে অসন্তোষ—সবগুলোর পেছনেই রয়েছে নিজস্ব স্থানীয় কারণ।

তবে ভিন্নতা থাকলেও একটি জায়গায় স্পষ্ট মিল রয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল সরকারি সেবা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির অভাবের মতো বিষয়গুলো বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তেই তরুণদের ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও নতুন প্রতিবাদের ভাষা

জেন-জি আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ডিসকর্ডের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মুহূর্তে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা, মতামত বিনিময় ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি সহজ হয়ে উঠেছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের বদলে অনলাইনভিত্তিক স্বতঃস্ফূর্ত ও বিকেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব সামনে আসছে, যা নির্দিষ্ট কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।

একইসঙ্গে প্রতিবাদের ধরনেও এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন। মিম, সংক্ষিপ্ত ভিডিও, ব্যঙ্গচিত্র, ডিজিটাল পোস্টার ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতীক এখন আন্দোলনের অন্যতম ভাষা। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের বিভিন্ন আন্দোলনে জাপানি মাঙ্গা ‘ওয়ান পিস’-এর জলদস্যু পতাকাকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

প্রেক্ষাপট ও ২০২৪ সালের গুরুত্ব

এই আন্দোলনের কোনো নির্দিষ্ট জন্মতারিখ নেই। ২০২০ সালের থাইল্যান্ড ও হংকং কিংবা ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কা ও ইরানের বিক্ষোভগুলোকে এর গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি বলা যায়। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও কেনিয়ার আন্দোলন বিশ্ববাসীকে নতুন করে দেখিয়ে দেয় যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত তরুণরা কীভাবে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়লে জেন-জি আন্দোলন একটি বৈশ্বিক প্রবণতা হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

রাজপথে আন্দোলন সফল করা বা সরকার পতন ঘটানো একটি সাময়িক সাফল্য মাত্র। আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় এর পর। দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশাসনিক সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়। সুস্পষ্ট নেতৃত্ব ও মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলে রাজপথের এই অর্জনকে টেকসই রাজনৈতিক সংস্কারে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জেন-জি আন্দোলনের সাফল্য কেবল সরকার পরিবর্তনের মধ্যে নয়, বরং এসব দাবি কতটা দীর্ঘমেয়াদি নীতিতে রূপ নিচ্ছে তার ওপরই নির্ভর করবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা

থাইল্যান্ড, হংকং, শ্রীলঙ্কা ও ইরান থেকে শুরু করে বাংলাদেশ, কেনিয়া, সার্বিয়া, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার, মরক্কো, পেরু কিংবা ফিলিপাইন—সব দেশের চিত্র এক না হলেও বার্তা একটিই: নতুন প্রজন্ম প্রচলিত রাজনীতির কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে তরুণদের এই রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, জেন-জি আন্দোলন কোনো একক দেশের ঘটনা নয়, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের এক নতুন ও শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে থেমে যাবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এর পেছনে কোনো একক নেতৃত্ব, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড কিংবা অভিন্ন সাংগঠনিক কাঠামো নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এক দেশের আন্দোলনের দাবি ও কৌশল খুব দ্রুতই অন্য দেশের তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে। তবে এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতাও ঠিক এখানেই। 

গবেষকদের মতে, তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ একটি আন্দোলনকে খুব দ্রুত শক্তিশালী করে তোলে ঠিকই; কিন্তু সুস্পষ্ট নেতৃত্ব ও মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলে আন্দোলনের সেই অর্জনকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংস্কারে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই জেন-জি আন্দোলনের 'শেষ গন্তব্য' কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়। যেসব দেশে তরুণদের মধ্যে অনুরূপ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ দানা বাঁধবে, সেখানেই নতুন করে এর স্ফুরণ ঘটতে পারে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আফ্রিকা কিংবা অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের তরুণ-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক—তবে তা কখন, কোথায় এবং কী মাত্রায় দেখা দেবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের তৎকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নদীতে ডুবে একে একে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর

নদীতে ডুবে একে একে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর

কোথায় গিয়ে থামবে জেন-জিদের আন্দোলন

কোথায় গিয়ে থামবে জেন-জিদের আন্দোলন

যেসব অ্যাপে লেনদেন করলে খোয়া যেতে পারে টাকা

যেসব অ্যাপে লেনদেন করলে খোয়া যেতে পারে টাকা

‘জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়’

রাশেদ খান ‘জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App