×

জাতীয়

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এত আগ্রহ কেন ভারতের?

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে এত আগ্রহ কেন ভারতের?

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিতে মুখিয়ে আছে নয়াদিল্লি। তবে ভারতের এই অব্যাহত আগ্রহ ও নিমন্ত্রণ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাউথ ব্লকে তার প্রথম সফরটি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের চেষ্টা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাঠানো একটি বার্তায় জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ভবনের নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে মহড়া চলছিল বলেও ওই বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে তখনও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

বার্তাটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর। কিন্তু এর মধ্যেই সম্ভাব্য সফর নিয়ে চলমান জল্পনা আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে তারেক রহমানকে দিল্লিতে নেওয়ার জন্য ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

আরো পড়ুন: কোথায় গিয়ে থামবে জেন-জিদের আন্দোলন

তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে চায় ভারত

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে দিল্লির বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বড় জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে তার প্রথম ভারত সফর।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়।

এখন ভারত মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও স্থিতিশীল ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান।

প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান

গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এসব অভিযোগ অবশ্য তিনি অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি তারা বিবেচনা করছে।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দিল্লির তৎপরতা

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য থাকলেও নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ভারত ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তারেক রহমান ভারত সফর করলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান এবং স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানোর কথা জানিয়েছেন ত্রিবেদী। প্রতিবেশী কোনো দেশের নেতার সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এমন প্রকাশ্য আগ্রহকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণও মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দিল্লি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ঢাকার অবস্থানের কারণে ভারতের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভারত

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রয়েছে ভাষা ও সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও।

গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি, চিকিৎসা ভিসা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ করতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

হাসিনার উপস্থিতি কি সম্পর্কের পথে বাধা?

শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, দিল্লি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় সেই বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। ওই বক্তব্যে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে তার সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলেন।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে কোন পথে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু, পারস্পরিক আস্থা এবং নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়—তার ওপর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনাম-থাইল্যান্ডকে ছাড়াবে বাংলাদেশ’

আইএমএফের পূর্বাভাস ‘২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনাম-থাইল্যান্ডকে ছাড়াবে বাংলাদেশ’

সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ইয়াবা, অতঃপর...

সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ইয়াবা, অতঃপর...

চাল-গমে গরমিল: খাদ্যগুদামের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, গোডাউন সিলগালা

চাল-গমে গরমিল: খাদ্যগুদামের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, গোডাউন সিলগালা

স্ত্রী ইয়াবার টাকা না দেয়ায় স্বামীর আত্মহত্যার অভিযোগ

স্ত্রী ইয়াবার টাকা না দেয়ায় স্বামীর আত্মহত্যার অভিযোগ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App