নেপালে বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ৫৪৭
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ জনে। এতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ১৫০০ জন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত নিহতের এই সংখ্যা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। তবে এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা কাঠমান্ডু পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার পর এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত উদ্ধার করা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ। পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন।
বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরে নেপালে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বতে প্রায় ১ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
-6a916d74286f5.jpg)
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নেপাল পুলিশ তাদের নতুন তথ্যে ৩৮৯টি মরদেহ উদ্ধারের কথা বলেছে। এর আগে এ সংখ্যাটি ছিল ৩৩২। এতে দেখা যাচ্ছে ঘণ্টায় ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলছে।’
আরো পড়ুন: কোথায় গিয়ে থামবে জেন-জিদের আন্দোলন
পুলিশ জানিয়েছে, ‘বন্যায় আক্রান্ত পরিবারগুলোকে এখন অন্যত্র সরানো হচ্ছে। এছাড়া আরেকবার বন্যা হলে যেসব মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তাদেরও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এখনো অন্তত ১৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হিসাবে ৮২৬ জন নিখোঁজ আছেন। যারমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। সংস্থাটি আরও বিস্তারিত জানিয়ে বলেছে, নিখোঁজদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৪ সদস্য, ২৮ পুলিশ সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর আরও ১৩ জন আছেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল (বুধবার) সকালে হঠাৎ করে রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক বন্যা। এ সময় সেখানে ত্রিশূলি এবং নারায়নি নদীর পানি বেড়ে যায়। আর ভোটকোশি নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে। এই বন্যার শক্তি এতই বেশি ছিল যে এটি তার মাঝে থাকা সবধরনের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
-6a916db9538f8.jpg)
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ আছেন। গতকাল চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল।
দুর্যোগের পর নেপালের কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি শহর ও প্রত্যন্ত উপত্যকায় আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোও ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। কয়েকটি উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে ভেসে আসা কয়েক ডজন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
