চাল-গমে গরমিল: খাদ্যগুদামের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, গোডাউন সিলগালা
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুদ যাচাইয়ে ১০০ টন চাল, ২০ টন গমের ঘাটতি, খাদ্যগুদামে ৪১ টন ধান বাড়তি এবং সাড়ে ৬ হাজার বস্তা কম পাওয়া যায়। এহেন গরমিলের কারণে ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও ওসিএলএসডি বিপুল কুমার দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের ২৫ আগস্টের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত একটি কমিটি ঘিওর ওসিএলএসডি অফিস সরেজমিন পরিদর্শন করে মজুদ যাচাই করে। খাতাপত্রের হিসাবের সঙ্গে গুদামের প্রকৃত মজুদ মিলিয়ে দেখার সময় এসব গরমিল কমিটির কাছে ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খান
মজুদ যাচাইয়ের পর কমিটি বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগকে জানালে এবিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা ও মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।
জেলা খাদ্যগুদামগুলোর মজুদের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘিওরে গিয়ে গুদামের নথিপত্রের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুদ মিলিয়ে দেখে। অডিট চলমান থাকায় গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
তবে, জনমনে প্রশ্ন, মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে মজুদ ঠিক থাকার তথ্য দেওয়া হলেও কীভাবে গুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি তৈরি হলো! বিশেষ করে ১৫ আগস্টের পাক্ষিক প্রতিবেদনে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানো হলেও ২৫ আগস্টের পর সরেজমিন যাচাইয়ে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।
মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, “মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অডিটের অংশ হিসেবে ঘিওরের খাদ্যগুদামে গরমিল পাওয়া যায়। এর সঙ্গে যারা জড়িত থাকতে পারেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, “প্রতি মাসে দুইবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট তার কাছে যে প্রতিবেদন এসেছিল, সেখান সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।”
ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও ওসিএলএসডি বিপুল কুমার দাসের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
