অর্ধশতাব্দীর বাতিঘর বদিউল আলম কলেজের সরকারিকরণের প্রত্যাশা
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নেই কোনো সরকারি কলেজ। অথচ বৃহৎ এই উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার পথে পা রাখে। একসময় বৃহত্তর মুরাদনগরের একমাত্র সরকারি কলেজ শ্রীকাইল সরকারি কলেজ থাকলেও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সেটি বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে মুরাদনগরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।
এমন বাস্তবতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখা বদিউল আলম কলেজকে সরকারিকরণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা নতুন করে সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো, জমি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসমৃদ্ধ বদিউল আলম কলেজকে সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ভৌগোলিকভাবে মুরাদনগর একটি বিস্তৃত উপজেলা। প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের আগে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শ্রীকাইল সরকারি কলেজে পড়াশোনার সুযোগ পেত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের সরকারি কলেজে পড়তে বাড়তি দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দূরত্বের সঙ্গে বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়। অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে থাকা-খাওয়ার অতিরিক্ত খরচ। ফলে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফল করেও অর্থের অভাবে অনেকে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে পারছে না। আবার ভর্তি হওয়ার পরও কেউ কেউ আর্থিক সংকটে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে ঝরে পড়ছে।
বদিউল আলম কলেজে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে বলে প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কলেজটি সরকারিকরণ হলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিবছর মুরাদনগর ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, বেসরকারি কলেজের ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, ফরম পূরণ, পরীক্ষার ফি ও যাতায়াত ব্যয় অনেক পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। সরকারিকরণ হলে এসব ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমে আসবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকার সুযোগ বাড়বে।
শুধু উচ্চমাধ্যমিক নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কলেজটি। বদিউল আলম কলেজে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মুরাদনগরের অন্যান্য কলেজে এসব বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ না থাকায় বদিউল আলম কলেজটি উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। সরকারিকরণ হলে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও সরকারি উচ্চশিক্ষার সুবিধার আওতায় আসবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বদিউল আলম কলেজ প্রায় ১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সরকারিকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এই জমি ও অবকাঠামো বড় সুবিধা হতে পারে। নতুন করে সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষ, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। বিপরীতে বদিউল আলম কলেজে ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে।
তাই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ করা গেলে নতুন করে শূন্য থেকে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার তুলনায় সময় ও সরকারি অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বদিউল আলম কলেজ মুরাদনগরের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দীর্ঘ পথচলায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে তাই বদিউল আলম কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় এটি মুরাদনগরের শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘ ইতিহাসের একটি অংশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বদিউল আলম কলেজ সরকারিকরণের দাবি এখন আর কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি করার দাবি নয়। এটি মুরাদনগরের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি।
তাঁদের মতে, একটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শুধু ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার কারণে সরকারি উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকবে এটি কাম্য নয়। শিক্ষায় বৈষম্য কমাতে হলে বৃহৎ উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
মুরাদনগরে সরকারি কলেজ না থাকার বাস্তবতায় এখন সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে এই সংকট নিরসনে আবারও নতুন একটি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে, নাকি ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমে সমৃদ্ধ, দীর্ঘ ঐতিহ্যের অধিকারী বদিউল আলম কলেজকেই সরকারিকরণের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের পথে এগোনো হবে?
স্থানীয়দের যুক্তি, বিদ্যমান অবকাঠামো, প্রায় ১০ একর জমি, বিপুল শিক্ষার্থী, অনার্স কার্যক্রম এবং অর্ধশতাব্দীর শিক্ষা-অবদান বিবেচনায় বদিউল আলম কলেজকে সরকারিকরণ করাই হতে পারে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কলেজটির জমি, অবকাঠামো, শিক্ষার্থীসংখ্যা, অনার্স কার্যক্রম, শিক্ষার মান ও দীর্ঘদিনের অবদানসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারিকরণের বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুরাদনগরের মানুষের দাবি বদিউল আলম কলেজ সরকারিকরণ চাই। শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য নয়, চাই সমান অধিকার। কারণ শিক্ষা কোনো বিশেষ শ্রেণির সুযোগ নয় এটি সবার অধিকার।
অর্ধশতাব্দীর বাতিঘর বদিউল আলম কলেজের সরকারিকরণের প্রত্যাশা
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা)
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নেই কোনো সরকারি কলেজ। অথচ বৃহৎ এই উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার পথে পা রাখে। একসময় বৃহত্তর মুরাদনগরের একমাত্র সরকারি কলেজ শ্রীকাইল সরকারি কলেজ থাকলেও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সেটি বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে মুরাদনগরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।
এমন বাস্তবতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখা বদিউল আলম কলেজকে সরকারিকরণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা নতুন করে সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো, জমি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসমৃদ্ধ বদিউল আলম কলেজকে সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ভৌগোলিকভাবে মুরাদনগর একটি বিস্তৃত উপজেলা। প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের আগে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শ্রীকাইল সরকারি কলেজে পড়াশোনার সুযোগ পেত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাঙ্গরা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের সরকারি কলেজে পড়তে বাড়তি দূরত্ব অতিক্রম করতে হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
দূরত্বের সঙ্গে বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়। অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে থাকা-খাওয়ার অতিরিক্ত খরচ। ফলে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফল করেও অর্থের অভাবে অনেকে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে পারছে না। আবার ভর্তি হওয়ার পরও কেউ কেউ আর্থিক সংকটে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পেরে ঝরে পড়ছে।
বদিউল আলম কলেজে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে বলে প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কলেজটি সরকারিকরণ হলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিবছর মুরাদনগর ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, বেসরকারি কলেজের ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, ফরম পূরণ, পরীক্ষার ফি ও যাতায়াত ব্যয় অনেক পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। সরকারিকরণ হলে এসব ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমে আসবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকার সুযোগ বাড়বে।
শুধু উচ্চমাধ্যমিক নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কলেজটি। বদিউল আলম কলেজে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মুরাদনগরের অন্যান্য কলেজে এসব বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ না থাকায় বদিউল আলম কলেজটি উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। সরকারিকরণ হলে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও সরকারি উচ্চশিক্ষার সুবিধার আওতায় আসবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বদিউল আলম কলেজ প্রায় ১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সরকারিকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এই জমি ও অবকাঠামো বড় সুবিধা হতে পারে। নতুন করে সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষ, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। বিপরীতে বদিউল আলম কলেজে ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে।
তাই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ করা গেলে নতুন করে শূন্য থেকে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার তুলনায় সময় ও সরকারি অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বদিউল আলম কলেজ মুরাদনগরের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দীর্ঘ পথচলায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে তাই বদিউল আলম কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় এটি মুরাদনগরের শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘ ইতিহাসের একটি অংশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বদিউল আলম কলেজ সরকারিকরণের দাবি এখন আর কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি করার দাবি নয়। এটি মুরাদনগরের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি।
তাঁদের মতে, একটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শুধু ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার কারণে সরকারি উচ্চশিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকবে এটি কাম্য নয়। শিক্ষায় বৈষম্য কমাতে হলে বৃহৎ উপজেলা পর্যায়ে সরকারি উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
মুরাদনগরে সরকারি কলেজ না থাকার বাস্তবতায় এখন সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে এই সংকট নিরসনে আবারও নতুন একটি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে, নাকি ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমে সমৃদ্ধ, দীর্ঘ ঐতিহ্যের অধিকারী বদিউল আলম কলেজকেই সরকারিকরণের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের পথে এগোনো হবে?
স্থানীয়দের যুক্তি, বিদ্যমান অবকাঠামো, প্রায় ১০ একর জমি, বিপুল শিক্ষার্থী, অনার্স কার্যক্রম এবং অর্ধশতাব্দীর শিক্ষা-অবদান বিবেচনায় বদিউল আলম কলেজকে সরকারিকরণ করাই হতে পারে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কলেজটির জমি, অবকাঠামো, শিক্ষার্থীসংখ্যা, অনার্স কার্যক্রম, শিক্ষার মান ও দীর্ঘদিনের অবদানসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারিকরণের বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুরাদনগরের মানুষের দাবি বদিউল আলম কলেজ সরকারিকরণ চাই। শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য নয়, চাই সমান অধিকার। কারণ শিক্ষা কোনো বিশেষ শ্রেণির সুযোগ নয় এটি সবার অধিকার।