আয়-ব্যয়ের হিসাব ছাড়া পে-স্কেল নয়: টিআইবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে সরকারি চাকরিজীবী ও তাঁদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় টিআইবি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার পর তা বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল টিআইবি। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও ফলো-আপ করা হয়েছিল।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা খুবই যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাঁদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।’
আরও পড়ুন: ছাদে সোলার বসালে মিলবে প্রণোদনা, প্রজ্ঞাপন জারি
তিনি বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মজীবী ও তাঁদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ ও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, যেসব কর্মজীবী প্রতিবছর তাঁদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী হালনাগাদ করে প্রকাশ করবেন, কেবল তাঁদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর হওয়া উচিত। যারা তা প্রকাশ করবেন না, তাঁদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া অনুচিত।’
এ শর্ত বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মজীবী আছেন, যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং সৎভাবে জীবনযাপন করেন। তাঁদের জন্য নতুন বেতনস্কেল সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে, যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে লিপ্ত, তাঁদের জন্য এ সুবিধা যেমন অযৌক্তিক, তেমনি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।’
আরও পড়ুন: বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প
ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, কার্যকর জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এর দৃষ্টান্ত আগেও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে -সরকারের এমন আশাবাদের কথাও উল্লেখ করেছে টিআইবি।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে-স্কেলের ক্ষেত্রেও অনেকের মধ্যে একই ধরনের আশাবাদ ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা আরও বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এবার অন্তত তার ব্যতিক্রম হবে- এ বিশ্বাস করতে চাই। সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিকভাবে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা না হলে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। অথচ দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব্যয় বহন করা হয়।’
সর্বোপরি, সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেছে টিআইবি। এর ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ইতোমধ্যে দিশেহারা স্বল্পআয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্তগুলো কার্যকর করতে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।
