ছাদে সোলার বসালে মিলবে প্রণোদনা, প্রজ্ঞাপন জারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রে পাওয়া মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
আরও পড়ুন: বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প
তবে কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্যসংক্রান্ত তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুন: লক্কড়-ঝক্কড় বাস কীভাবে ফিরবে রাস্তায়?
প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই এ অর্থ নগদে পরিশোধ করা হবে না।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা কার্যকর হবে না।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সব সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসআরইডিএ) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
এ সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: সীমান্তে নজরদারিতে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন ব্যবহার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর হবে।
