×

সিলেট

বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় শিক্ষকরা

Icon

বিকুল চক্রবর্তী, মৌলভীবাজার

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় শিক্ষকরা

ছবি : ভোরের কাগজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বদলি নীতিমালার কয়েকটি শর্ত নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। বিশেষ করে কোনো বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলে সেখান থেকে শিক্ষক বদলি হতে না পারা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪০-এর বেশি হলে বদলির সুযোগ না থাকার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে নতুন নীতিমালার এসব শর্তের কারণে অনেক শিক্ষক ন্যায্য বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে বর্তমানে পাঁচজন করে শিক্ষক কর্মরত। আবার সরকারের একটি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যাও পাঁচটি করে নির্ধারিত। ফলে ‘পাঁচজন শিক্ষক থাকলে বদলি নয়’ -এমন শর্ত কার্যকর হলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভবিষ্যতেও বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। বঞ্চিত শিক্ষকরা এটিকে তাদের ন্যায্য অধিকার হরণের আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: এআই নিয়ন্ত্রণে ওপেনএআইয়ের নতুন উদ্যোগ

অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ জনেরও কম। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থী কম হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিফট অনুযায়ী একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭-৮ জনের মতো। বিপরীত চিত্রও রয়েছে। কিছু বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত। ফলে কোথাও শিক্ষক-সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না, আবার কোথাও শিক্ষকদের ওপর পড়ছে অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ।

শিক্ষকদের মতে, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এই বৈষম্য দূর করতে আগে চালু থাকা ‘সমন্বিত বদলি’ ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী কম থাকা বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত শিক্ষককে শিক্ষার্থী বেশি থাকা বিদ্যালয়ে পদায়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু বর্তমানে সমন্বিত বদলি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং নতুন বদলি নীতিমালায় এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনাও নেই।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরফদার বলেন, “বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় আনা উচিত। বিশেষ করে সমন্বিত বদলি ব্যবস্থা চালু করা গেলে একদিকে শিক্ষক সংকট কমবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও এর সুফল পাবে।”

আরও পড়ুন: ছাত্রকে দিয়ে খাতা দেখালেন শিক্ষক, অতঃপর...

শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদা শারমিন জুলি বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২৮৪ জন, শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। অর্থাৎ প্রত্যেক শিক্ষকের ওপর ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব। সমন্বিত বদলি চালু হলে যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম এবং যেসব বিদ্যালয়ে বেশি, সেখানকার শিক্ষকসংখ্যার মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।”

শিক্ষক সমিতির নেতা জাকির হোসেন বলেন, শ্রীমঙ্গল চা বাগানসহ বেশ কিছু এলাকায় অনেক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন, অথচ সেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কারণেও অনেক সহকারী শিক্ষক বদলির সুযোগ পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, “বদলির ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত ১:২০-এর নিচে, সেসব বিদ্যালয় থেকে অন্তত একজন সহকারী শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। অথবা ১:৪০ অনুপাত বজায় রেখে বদলির বিধান রাখা যেতে পারে।”

এদিকে শ্রীমঙ্গল খেজুরিছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রানী দেব জানান, তার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৬ জন, আর শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। প্রচুর পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হয়। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষক হলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে চা বাগান অধ্যুষিত শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বেশ কয়েকজন শিক্ষকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বদলি-সংক্রান্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটি।

আরও পড়ুন: ঢাকা-১০ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরকে ইউনূসের ফোন, দাবি রাশেদের

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী জানান, পাঁচজন শিক্ষক থাকলে প্রতিস্থাপনের বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের বদলি কমিটিরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রণালয় থেকে হয়ে থাকে। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়ন করি। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি, কিন্তু শিক্ষকের পদ কম, সেসব বিদ্যালয় নিয়ে কাছাকাছি সময়ে একটি সার্ভে করে মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যেসব বিষয় করা প্রয়োজন, মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “কাছাকাছি সময়ে প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করা হবে। তখন এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।”

তবে শিক্ষকরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ের কমিটির হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নীতিমালায় বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। এতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কমবে এবং শিক্ষক বদলিতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ভেদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বৈষম্য দূর করতে দ্রুত সমন্বিত বদলি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হবে। এতে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

সংসদে আরও ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, নতুন দায়িত্বে যারা

সংসদে আরও ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, নতুন দায়িত্বে যারা

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে নিজের নামে করতে চান ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে নিজের নামে করতে চান ট্রাম্প

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা, আসামি গ্রেপ্তার

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা, আসামি গ্রেপ্তার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App