পে স্কেলে বড় পরিবর্তন, বাদ পড়ল যেসব প্রস্তাব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের কিছুটা কাটছাঁট করে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে সরকার। সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’-এ ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। তবে কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় প্রথম, অষ্টম ও নবম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। মূল বেতন তিন ধাপে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয় সচিব কমিটি। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানও পুনর্বিবেচনা করা হয়।
বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯ দশমিক ৪৫। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৮ করা হয়েছে।
যেসব গ্রেডে পরিবর্তন
সচিব কমিটির সুপারিশে কমিশনের প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। প্রতিটি গ্রেডে প্রস্তাবিত ধাপের সংখ্যাও অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাবও বহাল রয়েছে।
তবে প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন এ গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। পরে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অষ্টম ও নবম গ্রেডেও কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হয়েছে। এই দুই গ্রেডে কমিশন প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে। অন্য গ্রেডগুলোতে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে।
২০ গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডে মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।
চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং সপ্তম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।
অষ্টম গ্রেডে ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা এবং নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দশম গ্রেডে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং একাদশ গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
দ্বাদশ গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা এবং ত্রয়োদশ গ্রেডে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চতুর্দশ গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং পঞ্চদশ গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে।
ষোড়শ গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা এবং সপ্তদশ গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অষ্টাদশ গ্রেডে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ঊনবিংশ গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি
নতুন স্কেলে প্রথম থেকে একাদশ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ রাখা হয়েছে। দ্বাদশ গ্রেডে এ হার ১১৫ শতাংশ, ত্রয়োদশ গ্রেডে ১১৮ শতাংশ এবং চতুর্দশ গ্রেডে ১৩০ শতাংশ।
এ ছাড়া পঞ্চদশ ও ষোড়শ গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১৩৫ শতাংশ, সপ্তদশ গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ এবং অষ্টাদশ গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ঊনবিংশ গ্রেডে এ হার ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ রাখা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাব অনুযায়ী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হারও বহাল রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।
