নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে সর্বশেষ যা জানা গেল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা এখন শেষ ধাপে।
প্রজ্ঞাপনের রেজুলেশন ইতোমধ্যে বিজি প্রেস থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। সব প্রক্রিয়া ঠিকঠাক এগোলে শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় পে স্কেলের রেজুলেশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে। এরপর প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে ভেটিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গেজেট প্রকাশে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো দেরি করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় যতটুকু সময় প্রয়োজন, শুধু সেটুকুই লাগছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরির প্রচলিত ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেতন বাড়ছে ২০তম গ্রেডে। এ গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার দাঁড়াচ্ছে ১৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনও দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামোয় তাদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে নতুন পে স্কেলে বর্ধিত বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতনের বাড়তি অংশ তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে অতিরিক্ত অংশের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ এবং শেষ ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ যুক্ত হবে।
আরো পড়ুন: আজ কেমন থাকবে রাজধানীর আবহাওয়া?
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে বাড়তি ১১ হাজার ৭৫০ টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা প্রথম ধাপে যোগ হবে। এতে মূল বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। পরবর্তী দুই ধাপে ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা করে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বেতন ২০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।
একইভাবে প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হলে অতিরিক্ত ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ হাজার ২০০ টাকা প্রথম ধাপে যুক্ত হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা করে যোগ হয়ে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারিত অঙ্কে পৌঁছাবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বিভিন্ন ধরনের ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর বাইরে প্রায় ৯ লাখ মানুষ পেনশন সুবিধা ভোগ করছেন। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি মিলিয়ে এ খাতে সরকারের মোট ব্যয় ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশেষ করে রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা, ব্যাংক খাতে চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে এই অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
আরো পড়ুন: বুধবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি খাতের আয়বৈষম্য আরও দৃশ্যমান হতে পারে।
তাদের মতে, বেতন বৃদ্ধির ফলে মানুষের হাতে ব্যয়যোগ্য অর্থ বাড়বে। কিন্তু একই সময়ে পণ্য ও সেবার সরবরাহ অনুপাতে না বাড়লে বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন ক্ষয় পুষিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষের আয় যাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ে, সে জন্য কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
