আসিফ নজরুল
‘বাঁধনের ওপর হামলা সহ্য করার মতো নয়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
ফাইল ছবি
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, এমন ঘটনা কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কর্মকাণ্ড দেখে তিনি বিস্মিত। অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর এভাবে হামলা কীভাবে করতে পারলেন তারা—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে হামলার ঘটনাটি নিজেরাই প্রচার করে এর ‘অকাট্য সাক্ষী’ রেখে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি লেখেন, ‘অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর আপনারা এভাবে হামলা করতে পারলেন? নিজেরাই তা ফলাও করে প্রচার করলেন, নিজেরাই অকাট্য সাক্ষী রাখলেন! এখন যদি আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হবে। সেটা আপনাদের জন্য ভালো হবে? আপনাদের পরিবারের জন্য বিষয়টা ভালো হচ্ছে?’
আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল প্রশ্ন তোলেন, তারা কার স্বার্থে নিজেদের বিপন্ন করে এসব করছেন। তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নতুন রূপে তাকে দেখে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে তিনি বা তার মা তাদের জন্য উদ্বিগ্ন?
আরও পড়ুন: পরীমণির বায়োপিকে অভিনয় করতে চান দীঘি, নেপথ্যে কী
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ‘সত্যি বিশ্বাস করেন, আপনাদের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন তারা? সত্যি বিশ্বাস করেন, আপনাদের করুণ পরিণতি হলে কোনো সাহায্য করবেন তারা?’
আসিফ নজরুল বলেন, নিজেদের বিপন্ন করার পাশাপাশি দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। দলকে ভালোবাসলে বিদেশে থেকেও নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি লেখেন, ‘কেন বাংলাদেশের সব স্তরের মানুষ নিজের জীবন বিপন্ন করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, গোপনে হলেও তা বোঝার চেষ্টা করুন। দলের স্বার্থপর নেতাদের প্রশ্ন করেন। সবচেয়ে আগে নিজেকে নিরাপদ রাখেন।’
এরপর নিজের অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দুই বছর আগে জেনেভায় তার বিরুদ্ধে ‘মব’ করার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা নেননি। কিন্তু এরপর আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী আরও ‘নোংরা ও বেপরোয়া’ হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
