হজ প্যাকেজে বড় ছাড়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে সরকার। খাবারের ব্যয় প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রেখে নতুন এ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করতে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১ এর মূল্য ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা। ২০২৭ সালে এই প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্যাকেজ-১ এর খরচ কমেছে ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। এর সঙ্গে ২০২৭ সালের প্যাকেজে খাবারের জন্য ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকা অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-২ এর মূল্য ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা। আগামী বছর এ প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্যাকেজ-২ এর খরচ কমেছে ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা। এ প্যাকেজেও খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কমেছে বিমান ভাড়াও
শুধু হজ প্যাকেজ নয়, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের বিমান ভাড়াও কমিয়েছে সরকার।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ২০২৭ সালে তা ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হজের ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে সরকারের এ উদ্যোগ একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। সাধারণত সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের ব্যয় বাড়লেও হাজিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবার বিমান ভাড়া এবং হজ প্যাকেজের মূল্য দুটিই কমানো হয়েছে।
হাজিদের টাকা ফেরত দিয়েছে সরকার
২০২৬ সালের সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় মোট ৪ হাজার ৩৮১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বলে সংসদে জানান ধর্মমন্ত্রী।
তিনি জানান, বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত ব্যয় কম হওয়ায় হিসাব শেষে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে।
কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই বিএফটির মাধ্যমে ওই উদ্বৃত্ত অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণেই এ অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রী।
‘সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে হজ’
২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা এবং নিবিড় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এবারের হজ কার্যক্রম অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সৌদি হজ মন্ত্রীও বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন বলে জানান তিনি।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীদের খেদমত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হাজিদের সেবায় মানবিকতা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
