মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
আমীরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম। শুক্রবার বিকেলে মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে এদিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেও তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আমীরুল ইসলামের মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হয়।
সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ সংস্কৃতি ও সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এক শোকবার্তায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আমীরুল ইসলাম দেশের ছড়াসাহিত্যে সুপরিচিত নাম। তার ছড়া শিশুকিশোরদের মনে আনন্দের আবহ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশপ্রেম, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।’
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সংস্কৃতিকর্মী মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, ‘দেশে বসন্ত উৎসব, বর্ষা উৎসব কিংবা নবান্ন উৎসবের মতো আয়োজনকে জনপ্রিয় করা এবং সংস্কৃতির মূলধারায় নিয়ে আসার পেছনে তার উদ্ভাবনী ধারণার বড় ভূমিকা ছিল।’
আরও পড়ুন: ফিল্ড ফায়ারিংয়ে আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
কবি আসলাম সানি বলেন, ‘আমীরুল আমাদের আধুনিক বাংলা শিশুসাহিত্যের শুধু একজন লেখক নন, একজন দার্শনিকও ছিলেন। একাত্তরের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে তিনি ধারণ করেছিলেন। শারীরিকভাবে চলে গেলেও তিনি তার কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে চিরজাগরুক থাকবেন।’
এর আগে জুমার নামাজের পর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আমীরুল ইসলামের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এই সাহিত্যিক। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য অল্প বয়সেই প্রথমবার অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান তিনি। পরবর্তী সময়ে একই পুরস্কার আরও পাঁচবার অর্জন করেন।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আমীরুল ইসলাম সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার, শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার এবং কলকাতার অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক।
আমীরুল ইসলাম বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের মাসিক ‘আসন্ন’ এবং অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’র প্রথম চার রঙের কিশোর পাতা সম্পাদনার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।
সর্বশেষ চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে কর্মরত ছিলেন এই শিশুসাহিত্যিক। তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
