×

জাতীয়

পে স্কেলের গেজেট আটকে থাকার নেপথ্যে যে কারণ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

পে স্কেলের গেজেট আটকে থাকার নেপথ্যে যে কারণ

ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সপ্তাহের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গণি। তবে সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চললেও এখনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।

নতুন মূল বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, ইনক্রিমেন্ট ও সার্ভিস বেনিফিটের সমন্বয় কীভাবে হবে এবং কার কত টাকা বকেয়া পাওনা হবে -এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গেজেট প্রকাশে বিলম্বের পেছনে মূলত তিনটি কাজ এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া বিধান আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা ও সুবিধাসংক্রান্ত কিছু বিষয় নিষ্পত্তি এবং বেতন-পেনশনের হিসাবের জন্য আইবিএএস++ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি।

কর্মকর্তারা বলছেন, এসব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে ৩১ আগস্ট

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পে স্কেল-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও বর্ধিত বেতন একবারে পুরোপুরি দেওয়া হবে না। মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন হারে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী।

পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

‘কার বেতন কত’ নির্ধারণ করবে গেজেট

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত কাঠামোতে গ্রেড অনুযায়ী নতুন মূল বেতনের অঙ্ক নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন নতুন স্কেলের কোন ধাপে গিয়ে স্থির হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অর্থ বিভাগের বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনায় এর ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

বিশেষ করে কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন যদি সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নতুন নির্ধারিত প্রারম্ভিক বেতনের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তার বেতন কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে-এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মেয়াদ এবং বিদ্যমান আর্থিক সুবিধাগুলো নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তাও গেজেটে পরিষ্কার করতে হবে।

সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগে বেতন নির্ধারণের হিসাব ম্যানুয়ালি করা হতো। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর প্রযুক্তিনির্ভর হিসাব ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে সেই প্রযুক্তির মাধ্যমেই হিসাব করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত কিছু কারণে গেজেট প্রকাশে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে; আপাতত অন্য কোনো জটিলতা নেই।

জুডিশিয়ারির দাবিও পর্যালোচনায়

গেজেট প্রকাশের আগে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা নিয়েও প্রশাসনিক পর্যায়ে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শতভাগ ভাতাসহ কয়েকটি সুবিধার বিষয়ে যেসব দাবি ও প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতীয় পে স্কেলের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য আলাদা বেতনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে দুই কাঠামোর মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হবে বলে জানা গেছে।

আইবিএএস++-এ বড় ধরনের প্রস্তুতি

পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় কাজ হচ্ছে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট, ভাতা, কর্তন, আয়কর ও পেনশনের বড় অংশের হিসাব আইবিএএস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে হলে এই ব্যবস্থায় নতুন বেতন ম্যাট্রিক্স যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিও সফটওয়্যারে সংযোজন করতে হবে।

১ জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর হলে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া বা অ্যারিয়ার কীভাবে হিসাব করা হবে, সেই ব্যবস্থাও আইবিএএস++-এ যুক্ত করতে হবে। লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একযোগে হিসাব চালু করতে প্রয়োজন হবে তথ্য যাচাই ও সফটওয়্যার পরীক্ষা।

পেনশনভোগীদের হিসাবেও প্রয়োজন বিস্তারিত নির্দেশনা

নতুন পে স্কেল নিয়ে কর্মরতদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।

তবে পুরোনো ও নতুন পেনশনভোগীদের সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে এবং নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার আগে ও পরে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের হিসাব কোন পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হবে, তা বিস্তারিত নির্দেশনার মাধ্যমে জানাতে হবে।

ফলে পে স্কেলের গেজেট শুধু নতুন বেতনের অঙ্ক প্রকাশের বিষয় নয়। এর সঙ্গে বেতন নির্ধারণ, পেনশন, ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, অ্যারিয়ার এবং হিসাব ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনাও যুক্ত থাকবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেলের ঘোষণা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়া মানেই পে স্কেল আটকে গেছে -এমন নয়। আইনগত যাচাই, বিভিন্ন সুবিধার সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কাজ শেষ করেই প্রজ্ঞাপন জারি করতে চায় সরকার।

এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর অর্থ বিভাগের গেজেটের দিকে। কারণ মন্ত্রিসভার অনুমোদন নতুন বেতন কাঠামোর নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু কে কত টাকা পাবেন, কোন তারিখ থেকে পাবেন এবং বকেয়া কীভাবে পরিশোধ হবে-এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে গেজেট প্রকাশের পরই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় মঙ্গলবার

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মামলার রায় মঙ্গলবার

ইসলামী ব্যাংকের সামনে সংঘর্ষ, আহত ২৫

ইসলামী ব্যাংকের সামনে সংঘর্ষ, আহত ২৫

পে স্কেলের গেজেট আটকে থাকার নেপথ্যে যে কারণ

পে স্কেলের গেজেট আটকে থাকার নেপথ্যে যে কারণ

শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট

শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App