ইসলামী ব্যাংকের সামনে সংঘর্ষ, আহত ২৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক রাখা, পরিচালনা পর্ষদে পেশাদার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং এস আলমের ‘অশুভ হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে সচেতন গ্রাহক ফোরাম বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে। একই সময়ে ‘ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী’ ব্যানারে আরেকটি পক্ষ সেখানে অবস্থান নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচি শুরু হলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অপর পক্ষের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, অবৈধ নিয়োগে চাকরিচ্যুত এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ তাদের কর্মসূচিতে হামলা চালায়। এ সময় গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা-হেঁচড়া ও মারধর করা হয়।
হামলায় ফোরামের সহসভাপতি মোতাছিম বিল্লাহ আহত হন। ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নূর নবী মানিকের দাবি, তাদের প্রায় ২৫ জন শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে নিকটস্থ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই লোকজন আহত হয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নূর নবী মানিক অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই গ্রাহকদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ সময় হামলার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদ এবং ইসলামী ব্যাংককে ‘অশুভ শক্তির’ প্রভাব থেকে রক্ষার দাবিতে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয় সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের এমন কর্মকাণ্ডে ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত বহিরাগত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
