পেনশনভোগীর স্বামী বা স্ত্রী পাবেন আজীবন সুবিধা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে বেশ কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন সুবিধা দেওয়া, স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা, ঋণ সুবিধা চালু এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে জমা করা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী পদাধিকারবলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, মানুষের আগ্রহ বাড়াতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। পর্ষদের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
স্বামী বা স্ত্রী পাবেন আজীবন পেনশন
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর হলে মাসিক পেনশন শুরু হয়। পেনশন চলাকালে তিনি মারা গেলে তার নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পারিবারিক পেনশন পেয়ে থাকেন। এই ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বজনীন পেনশন স্কিমেও নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় উঠতে পারে।
তিন বছরে নিবন্ধন ৩ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি
চালুর প্রায় তিন বছর পরও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চারটি স্কিমে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১৭ সেপ্টেম্বরের আগের হিসাব হিসেবে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন এবং মোট জমার পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। এ স্কিমে জমা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী এতে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ৯৭ জন। এই স্কিমে জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
চালু হতে পারে ঋণ সুবিধা
সর্বজনীন পেনশন আইনে বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহকের জমা করা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ঋণের সুদও গ্রাহকের পেনশন হিসাবে জমা হওয়ার কথা। তবে এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঋণ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া অন্তত পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ ধরনের এক্সিট সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যবিমার প্রস্তাব
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা নামমাত্র প্রিমিয়াম নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর ভাবনা
সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক একটি সংস্করণ চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণে আগ্রহী মানুষের জন্য নতুন একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন করে দ্রুত নতুন সুবিধাগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
