জুয়া-মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ সংঘটনের পর শুধু গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করলেই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনের কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি অনেক সময় বড় কোনো সমস্যার উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। তাই সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অনেক গুরুতর অপরাধের সঙ্গে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব। জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমে আসতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ ক্রাইম রিপোর্টিংয়ে সহায়তার উদ্যোগ
ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা সরকারিভাবে চেষ্টা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কোনো ক্রাইম রিপোর্টার আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটি বিবেচনা করা হবে।
ক্রাইম রিপোর্টিংকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক ইউনিট
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধের বিস্তার বাড়ায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণের গুরুত্বও বেড়েছে।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগির আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায়েও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পাশাপাশি থানা ও উপজেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
নতুন অপরাধে নতুন আইন প্রয়োজন
অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, পুরোনো আইন দিয়ে সব ধরনের নতুন অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সবসময় সম্ভব হয় না।
অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পুরোনো আইনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে আসামিকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সমাজের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করতে হবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকা
সাংবাদিকদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।
আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের ভূমিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্রাইম রিপোর্টারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য সনদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঝুঁকিপূর্ণ রিপোর্টিং ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করে দেখার কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রিপোর্টিংয়ের মান বজায় রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধ কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্।
