ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
চলতি বছরের নভেম্বরে ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আগে স্থগিত হয়ে যাওয়া কিছু আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের প্রস্তুতি ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের অংশ হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছেন। গত আগস্টেও তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালেই শেষ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সার্ককে সক্রিয় করতে চায় বাংলাদেশ
এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা বা ‘মোহ’ থেকে বেরিয়ে এসে ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে গেলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর তার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় ঢাকা। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জুনে ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
