পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া, কোন খাতে ভাতার হার কত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার হার নির্ধারণ করে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নতুন কাঠামোতে বাড়িভাড়া ভাতা সর্বোচ্চ মূল বেতনের ৬০ শতাংশ এবং চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ মাসে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন বাড়িভাড়া ভাতার হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীরা আগের নিয়ম ও হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা
নতুন বেতন কাঠামোতে চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছর ১ দিন বয়স থেকে অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়স হলে মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গ্রেড ও কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে। গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কর্মচারীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন। নির্ধারিত অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় এ হার হবে ৫০ শতাংশ। অন্যান্য এলাকায় বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ শতাংশ।
আরো পড়ুন: আজই হতে পারে পে-স্কেলের গেজেট, কোন গ্রেডে বেতন কত?
গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত ঢাকা শহরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, নির্ধারিত অন্যান্য শহরে ৪০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়া হবে।
গ্রেড-৯ থেকে গ্রেড-৫ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য ঢাকা শহর, অন্যান্য নির্ধারিত শহর ও অন্যান্য এলাকার হার যথাক্রমে ৪৫, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, গ্রেড-৪ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ঢাকা শহরে ৪০ শতাংশ, অন্যান্য নির্ধারিত শহরে ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ২৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী কোনো কর্মচারী বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। স্বামী-স্ত্রী দুজনই সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে এবং দুজন একই সরকারি বাসভবনে থাকলে যার নামে বাসাটি বরাদ্দ থাকবে, তার বেতন থেকে নির্ধারিত হারে বাড়িভাড়া কেটে নেওয়া হবে। তিনি বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। অন্যজন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এ ভাতা পাবেন।
বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ
সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাংলা নববর্ষ ভাতা হিসেবে আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মাসিক নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও মূল পেনশনের ভিত্তিতে একই হারে এ ভাতা পাবেন।
উৎসব ভাতা থাকছে আগের নিয়মেই
বার্ষিক উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বহাল থাকবে। কোনো কর্মচারী একবার এসব ভাতা উত্তোলন করার পর পরবর্তীতে বেতন পুনর্নির্ধারণের কারণে অতিরিক্ত কোনো বকেয়া পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশনের সমপরিমাণ অর্থে বছরে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। আর যারা ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণ করেছেন, তারা পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ নিট পেনশন পেতেন, সেই পরিমাণ অর্থ বছরে দুইবার উৎসব ভাতা হিসেবে পাবেন।
সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা
সরকারি কর্মচারীদের সন্তানের জন্য মাসে ৫০০ টাকা হারে শিক্ষা সহায়ক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য একজন কর্মচারী মাসে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন।
স্বামী ও স্ত্রী দুজনই সরকারি চাকরিতে থাকলে সন্তানসংখ্যা একজনের ক্ষেত্রেই হিসাব করা হবে। বয়সের সনদ জমা দেওয়ার শর্তে সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এ শিক্ষা ভাতা পাওয়া যাবে।
টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মচারী নিজ কর্মস্থল থেকে লাঞ্চ ভাতা কিংবা বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার পেলে তিনি টিফিন ভাতার জন্য যোগ্য হবেন না।
এ ছাড়া চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ভ্রমণ ভাতার ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত নিয়মই আপাতত কার্যকর থাকবে। তবে প্রয়োজন ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগ নতুন হারে ভ্রমণ ভাতা নির্ধারণ করে আলাদা আদেশ জারি করতে পারবে।
নতুন নিয়োগে ভাতার হার
গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একই পদে নিয়োগ পেলে যে হারে বা পরিমাণে বিভিন্ন ভাতা পেতেন, সেই হারেই ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাতা পাবেন।
