নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন না যেসব চাকরিজীবী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
ফাইল ছবি
জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে ওই দিন যারা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, তাদের সবাই নতুন বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাবেন না। বিশেষ করে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যাদের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হয়েছে এবং ১ জুলাই অবসর নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
নতুন পে স্কেল নিয়ে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর আওতা, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি এবং অবসর, অবসরোত্তর ছুটি, পদোন্নতি, প্রেষণ, ছুটি ও সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকা কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান তুলে ধরা হয়েছে।
গেজেটের বিধান অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারীর অবসরোত্তর ছুটি শেষ হলে এবং তিনি ১ জুলাই অবসর নিলে, ১ জুলাই থেকে কার্যকর জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ করা হবে না।
অন্যদিকে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী অবসরোত্তর ছুটিতে থাকলে তার ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এ ধরনের কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে শুধু পেনশন নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, বাড়তি বেতন কবে থেকে?
অবসরোত্তর ছুটির মেয়াদে কোনো কর্মচারীর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ পড়লে, সেই বেতনবৃদ্ধিও পেনশন নির্ধারণের জন্য তার বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে অবসরোত্তর ছুটির সময়ে তিনি যে ছুটির বেতন পাবেন, তা পুরোনো বেতনস্কেলের ভিত্তিতেই দেওয়া হবে।
১ জুলাই থেকেই বিলুপ্ত পুরোনো বেতনস্কেল
গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের অব্যবহিত আগে বিদ্যমান পদগুলোর বর্তমান বেতনস্কেল ওই তারিখ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান বেতনস্কেলের প্রতিটি স্কেলের বিপরীতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেল কার্যকর হয়েছে।
অর্থাৎ, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বা তার আগে কোনো কর্মচারী সংশ্লিষ্ট পদে যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড, ভিন্ন গ্রেড বা স্কেলে বেতন পেতেন, ১ জুলাই থেকে তার বিপরীতে নির্ধারিত জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
নতুন বেতনস্কেলে ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। গ্রেড-১-এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গ্রেড-২০-এর বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে
বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পাওয়া কোনো কর্মচারীর বেতন নতুন অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই নির্ধারণ করা হবে।
তবে কোনো কর্মচারীর মূল বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হলে প্রথমে তার মূল বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সেই পার্থক্য নতুন বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।
যোগফল নতুন বেতনস্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সমান হলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারণ করা হবে। আর যোগফলের সমান কোনো ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না।
গেজেটে দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেলে, ১ জুলাই থেকে নতুন অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অনুযায়ী তার বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ হবে।
আরও পড়ুন: হাসিনার আমলের চুক্তি পর্যালোচনা প্রসঙ্গে ভারতের বার্তা
অন্যদিকে, কোনো কর্মচারীর বর্তমান বেতনস্কেলে মূল বেতন ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা হলে নতুন বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা। এর হিসাব অনুযায়ী, পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা বাদ দিলে পার্থক্য দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ টাকা। নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে এই পার্থক্য যোগ করলে পাওয়া যায় ২৬ হাজার ২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ না থাকায় পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৬ হাজার ৩০০ টাকায় বেতন নির্ধারণ হবে।
পদোন্নতি ও প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে
১ জুলাই কোনো কর্মচারী উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পেলে প্রথমে নিম্নপদে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।
প্রেষণে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে, প্রেষণে না থাকলে নিজ মূল অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই বেতনের ভিত্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
ছুটিতে থাকলেও হবে বেতন নির্ধারণ
১ জুলাই কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকলে, ওই তারিখে তার বর্তমান বেতন অথবা ছুটিতে না থাকলে যে বেতন পেতেন—সেই ভিত্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এ তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
তবে নতুন বেতনস্কেলের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা ছুটির সময়ের জন্য প্রাপ্য হবে না।
সাময়িক বরখাস্তদের জন্য পৃথক বিধান
১ জুলাই কোনো কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকলে পুনর্বহাল হয়ে বাস্তবে কাজে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তার বেতন নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারণ করা হবে না।
পরবর্তী সময়ে পুনর্বহাল হলে প্রথমে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান বেতনস্কেল অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই বেতনের ভিত্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
১ জুলাই অবসর নেওয়া ও পিআরএলে থাকা কর্মীদের নিয়ম
সব মিলিয়ে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এ ১ জুলাই অবসর নেওয়া এবং ওই তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।
৩০ জুন অবসরোত্তর ছুটি শেষ করে ১ জুলাই অবসর নেওয়া কর্মচারীরা নতুন বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাবেন না। অন্যদিকে, ১ জুলাই অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেল পেনশন নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে পিআরএল চলাকালে প্রাপ্য ছুটির বেতন পুরোনো বেতনস্কেল অনুযায়ীই দেওয়া হবে।
