বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি বিমানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাঁচ মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তির মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন ১১টি যুক্ত হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে। নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়ন কাঠামো ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এটিকে দুই পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
চুক্তির পর ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিতে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এবং বোয়িংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর পরিকল্পনার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন হিসেবে দেশের জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের পরিচালন সক্ষমতা, নমনীয়তা ও দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য বজায় রাখা সহজ হবে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে করা ১৪ উড়োজাহাজের চুক্তিতে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করার কথা।
বিমানের বহর সম্প্রসারণের এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো এবং দেশের আকাশ যোগাযোগ সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
