আজ শেষ হজ নিবন্ধন, কোটার বাইরে বাড়ছে আগ্রহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
২০২৭ সালের পবিত্র হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সীমা আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৫ হাজার ৯১৮ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৫৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭০ হাজার ৮৬৪ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটার বিপরীতে বর্তমানে ২ হাজার ৫৮২টি আসন খালি রয়েছে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার ‘আনপেইড ভাউচার’ রয়েছে। এসব ভাউচারের অর্থ জমা পড়লে নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে। ফলে নির্ধারিত কোটার বাইরে ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার পর্যন্ত এসব ভাউচারের অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজকের পর হজ নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
গত ২৭ জুলাই চূড়ান্ত নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাক্-নিবন্ধিত হজযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের সাড়ে ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছিল।
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারিত রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি আরবকে জানানো হবে। এরপর সেই তালিকা অনুযায়ী সৌদি পর্বের অর্থ পাঠানো, আবাসন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ, টিকা ও প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
এদিকে নির্ধারিত কোটার বাইরে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ হজ পালনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর সঙ্গে প্রায় ১৩ হাজার আনপেইড ভাউচার রয়েছে। এসব ভাউচারের অর্থ পরিশোধ শেষ হলে কোটার অতিরিক্ত হজযাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা আরও পরিষ্কার হবে।
তবে সৌদি আরবের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত হজযাত্রীর নিবন্ধন করবে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। বাড়তি কোটা পাওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী নভেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তির আলোচনায় হজের কোটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত আগ্রহী হজযাত্রীদের সুযোগ দিতে কতটি বাড়তি কোটা প্রয়োজন, তা নিয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পরে সৌদি আরবের কাছে অতিরিক্ত কোটা চেয়ে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
হজ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আপাতত নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
নারায়ণগঞ্জ সাদ ইন্টারন্যাশনাল হজ এজেন্সির মালিক শহীদ উল্লাহ খান বলেন, প্রায় ২০ হাজার মানুষ অতিরিক্ত হজ পালনে আগ্রহী। তাঁদের সুযোগ দিতে আরও ২০ হাজারের মতো অতিরিক্ত কোটা প্রয়োজন।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, নির্ধারিত কোটার বাইরে অনেক হজযাত্রী হজ পালনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। কোটার বাইরে আগ্রহীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। হজযাত্রীদের জন্য ব্যবস্থাপনা সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে সরকার কাজ করছে। হজের খরচ কমানো, সেবার মান উন্নত করা এবং হাজিদের ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
