ঢাকায় চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র, ৮ মাসে ৭২৩ মামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৭২৩টি মামলা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে এসব মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষ হওয়া মামলাগুলোর প্রায় ৮৫ শতাংশে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের নথি বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। এরপর রয়েছে যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা।
৭২৩টি মামলার মধ্যে ৪২৫টির তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৯৮টি মামলা এখনো তদন্তাধীন। অর্থাৎ মোট মামলার প্রায় ৪১ শতাংশের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
তদন্ত শেষ হওয়া ৪২৫টি মামলার মধ্যে ৩৬৫টিতে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৬০টি মামলায় অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, গত ২০ মাসে ঢাকা মহানগরে চাঁদাবাজির ৩৬৫টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে চার্জশিট দেওয়ার পরও অনেক মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এর মধ্যে কিছু আসামি জামিনে বেরিয়ে গেছেন, আবার কয়েকটি মামলা উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আটকে আছে।
রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাতেও চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজির মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, প্রচলিতভাবে যেসব ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারকরা তুলনামূলক নমনীয় ছিলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তদন্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকা চাঁদাবাজির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। স্থগিতাদেশের কারণে যেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান মনে করেন, চাঁদাবাজির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন। তাঁর মতে, দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের সুযোগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে।
প্রচলিত আইনে চাঁদাবাজির জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে মৃত্যুর হুমকি বা গুরুতর পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। আইনজীবীদের কেউ কেউ চাঁদাবাজি সংক্রান্ত আইনের সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন।
