কম আমদানির অজুহাতে ২ হাজার ছাড়াল সিলিন্ডার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এলপিজির আমদানি এক ধাক্কায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকট। আমদানি কমার প্রভাব পড়েছে বাজারে, বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম।
সরবরাহ ঘাটতির সুযোগে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
আমদানি কমার পাশাপাশি বাড়তি দামের এই চাপ ভোক্তাদের জন্য নতুন করে ভোগান্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে নিয়মিত এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর ওপর পড়ছে এর সরাসরি প্রভাব।
বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।
এর মধ্যেই গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। খুচরা বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। এতে আন্তর্জাতিকভাবে জাহাজের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসায় মূল নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার পর বিকল্প পথে আমদানি করতে সময় ও খরচ—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আরো পড়ুন: ভরি প্রতি কত কমলো স্বর্ণের দাম?
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা কার্গো না পাওয়া। আগে একটি পথ বন্ধ থাকলে অন্যটি খোলা থাকত।’
তিনি আরো জানান, ‘দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী ২০ শতাংশ সরবরাহ কাটছাঁট করেছে। আর বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না।’
আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলেও বিইআরসির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণে সেই বাড়তি খরচ পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি টন এলপিজির কার্গো প্রিমিয়াম আগে বিইআরসির হিসাবে ১৬০ ডলার ধরা হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করলে বাড়তি ব্যয় পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক এলপিজি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।
ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে আমরা প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছি। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’
দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয়। এ চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই জোগান দেয় বেসরকারি খাত।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে না পৌঁছায় সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এই সংকট বজায় থাকার ঝুঁকি রয়েছে।’
