সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বাজারে আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও বেড়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে। ফলে ডিলার ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও তারা চাহিদার তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন। ডিলারদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে চাহিদা অনুযায়ী এক, দুই ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের অন্তত ছয়টি দোকানে খোঁজ নিয়ে চার-পাঁচটি করে বোতল পাওয়া যায়। কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল নেই, আবার কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না দুই লিটারের বোতল।
বিক্রেতারা বলেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। সরবরাহ করা তেলের একটি অংশ অনেক বিক্রেতা প্রকাশ্যে না রেখে সংরক্ষণ করছেন বলেও জানান তারা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমান আলী বলেন, তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছেন মাত্র চার কার্টন। নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তাই কিছু তেল আলাদা করে রাখতে হচ্ছে।
সাধারণত বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেলে খোলা তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ উভয় ধরনের তেলের দাম লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।
দাম বাড়ানোর দাবি কোম্পানিগুলোর
চলতি বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারি থেকেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে শুরু করে। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুলাইয়ের দিকে আবারও সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর লিটারপ্রতি আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৪ টাকা।
এ নিয়ে চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিল।
দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়াতে চায়। এ বিষয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তবে বুধবার সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। যাচাই শেষ হওয়ার আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না বলেও জানান তিনি।
২০০ টাকা কেজি ব্রয়লার
এদিকে গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা।
নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার একসঙ্গে বেশি ডিম কিনতে না পারায় এক বা দুটি করে ডিম কেনে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৫ টাকা।
অন্যদিকে প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও তুলনামূলক বেশি। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম, মুরগি ও মাছের বাড়তি দামে চাপের মধ্যে রয়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, তার আয় সীমিত হওয়ায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিম কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, দুই-তিন মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেনি, এর মধ্যে ডিমের দামও বেড়ে ডজনপ্রতি ১৬০ টাকায় উঠেছে।
