×

জাতীয়

কাশ্মীরে সেই পাকিস্তানি বর্বরতার স্মরণে দেশজুড়ে কালোদিবস পালিত

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৬ পিএম

কাশ্মীরে সেই পাকিস্তানি বর্বরতার স্মরণে দেশজুড়ে কালোদিবস পালিত

শুক্রবার কালো দিবসে কাশ্মীরে পাকিস্তানী বর্বরতার কথা স্মরণ করে কালো পোশাক ও কালো পোস্টার প্রদর্শণ করা হয়। ছবি: ভোরের কাগজ

কাশ্মীরে সেই পাকিস্তানি বর্বরতার স্মরণে দেশজুড়ে কালোদিবস পালিত

কালো দিবস স্মরণে মানববন্ধন।

কাশ্মীরে সেই পাকিস্তানি বর্বরতার স্মরণে দেশজুড়ে কালোদিবস পালিত

কালো দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে পথ নাটক অপারেশন গুলমার্গ মঞ্চস্থ হয়।

কাশ্মীরে সেই পাকিস্তানি বর্বরতার স্মরণে দেশজুড়ে কালোদিবস পালিত

ডিআরইউতে কালোদিবসের সেমিনারে ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবরে কাশ্মীরে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যা ও বর্বরতার কথা স্মরণ করে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কালো দিবস পালন করেছে। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) এসব সংস্থা মানববন্ধন ও সভাসেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে। এ দিন সংগঠনগুলো এ দিবসের দুঃখজনক ইতিহাস স্মরণ করেন।

১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর কাশ্মীরে পাকিস্তানের আগ্রাসন চালায়। এটি 'অপারেশন গুলমার্গ' নামে পরিচিত।

মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদ চর্চা ফোরাম, বাংলাদেশ, ওপেন ডায়লগ বাংলাদেশ (ওডিবি), বাংলাদেশ সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বিএসএএফ), স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন, উদীচীসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে মানববন্ধন ও সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় কালোদিবসের ইতিহাস নিয়ে পোস্টার ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করেছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পথনাটকেরও আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন স্থানের অনুষ্ঠানে কালো জামা পড়ে অংশ নেন সবাই।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) গুলশান দুই নম্বরে ওডিবি'র মানববন্ধন কর্মসূচীতে উপস্থিত নেতারা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পুরো এশিয়া উপমহাদেশে সহিংসতা ও দ্বিধাদ্ভন্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই ঘৃণ্য নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা পরিচালিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক গণহত্যার কোডের সমান্তরালে তৈরি হয়েছিল এই আয়োজন।

[caption id="attachment_314381" align="aligncenter" width="861"] কালো দিবস স্মরণে মানববন্ধন।[/caption]

সংগঠনের সমন্বয়কারী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা'র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, রাজনীতিক হামদুল্লাহ আল মেহেদী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যকরী সভাপতি এ টি এম মমতাজুল করিম, নারী নেত্রী মিতা রহমান, আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ সভাপতি আবদুল আহাদ, সমাজকর্মী আর কে রিপন, মানবাধিকার সংগঠক এ জে আলমগীর প্রমুখ।

সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ২২ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে ৪০ হাজারের বেশি কাশ্মীরি মুসলমান, শিখ ও হিন্দু বর্বর পাক সেনাদের হাতে নিহত হয়েছিল। ১০ হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং দুই হাজার নারীকে জোর করে পাকিস্তান নিয়ে গিয়েছিল বর্বর বাহিনী। 'অপারেশন গুলমার্গ' নামে পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন উপজাতীয় বাহিনী/কাবালিওয়ালীদের ১৯৪৭ সালে নিরীহ কাশ্মীরি জনগোষ্ঠীর উপর ২২ অক্টোবর আক্রমণের কোড জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিতে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৯৪৭ সালের উপজাতিদের ওপর আক্রমণ রাতারাতি ঘটেনি, এটি পাকিস্তানের কৌশলগত পরিকল্পনা। হানাদার বাহিনী দ্বারা বড় আকারের নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও তাদের সম্পদ লুট করা হয়েছিল, এমনকি হাসপাতালগুলোকেও রেহাই দেয়া হয় নাই।

তারা বলেন, আক্রমণকারীরা কাশ্মীরিদের দ্বারাও প্রতিহত হয়েছিল; তারা শ্রীনগর বিমানবন্দর দখল করার জন্য পাকিস্তানি আক্রমণকারীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। এই ধ্বংসযজ্ঞের পটভূমিতে, জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিংহ ভারত সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন এবং পাকিস্তান ও তার শক্তিশালী আক্রমণকারীদের দ্বারা লুণ্ঠিত হওয়ার জন্য তার রাজ্যকে বাঁচাতে ভারতের সঙ্গে একাত্মতার জন্য সন্ধি স্বাক্ষর করেছিলেন।

তারা বলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সুরক্ষিত করেছিল জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরকে। ২৭ অক্টোবর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম পদাতিক বাহিনী শ্রীনগর বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল এবং কাশ্মীরকে হানাদারদের থেকে মুক্ত করার যুদ্ধ শুরু করেছিল।

[caption id="attachment_314382" align="aligncenter" width="1600"] কালো দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে পথ নাটক অপারেশন গুলমার্গ মঞ্চস্থ হয়।[/caption]

এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘অপারেশন গুলমার্গ এবং অপারেশন সার্চলাইট : পাকিস্তানের পরিকল্পিত গণহত্যা’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, আজকের কুমিল্লার ঘটনায় সেই পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক ঘটনার মিল দেখতে পাই। অপারেশন গুলমার্গ, অপারেশন সার্চলাইট এবং কুমিল্লার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। তিনটি ঘটনাই মানবতাবিরোধী ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদের পরিস্ফূটন ঘটানো হয়েছে।

অন্যদিকে মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদ চর্চা ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ এর অধ্যাপক ডা. অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক আমিনুল হক ভুইয়া।

ইকবাল সোবহান বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের দুই মাসের মাথায় কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা দেখা দেয়। মুসলমান হিন্দুকে, হিন্দু মুসলমানকে হত্যা করে। সেই থেকেই কাশ্মিরে অশান্তি চলছে। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়, ধর্ষণ করা হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। সেই ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা করা হয়েছে।

[caption id="attachment_314383" align="aligncenter" width="1398"] ডিআরইউতে কালোদিবসের সেমিনারে ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।[/caption]

মামুন আল মাহতাব বলেন, দেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে ঠিক সেই সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার সূত্রপাত হল, যা ছড়িয়ে পড়লো সারাদেশে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে ঠিক সেই সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এটি প্রতিরোধ করতে না পারলে উন্নয়ন কাজে আসবে না।

সভাপতি বাসুদেব ধর তার বক্তব্যে কাশ্মীরের ইতিহাস, গুলমার্গে পাকিস্তানী গণহত্যা এবং বাংলাদেশের ২৫ মার্চের কাল রাতে গণহত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলা এরই ধারাবাহিকতা। দুদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে রুখতে হবে। পারস্পারিক দোষারোপের কোনো সুযোগ নেই। সাম্প্রদায়িক শক্তির ফাঁদে পা দিলে দুদেশের জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কালো দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে অন্যান্য বক্তরা বলেন, ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পাকিস্তান গণহত্যা চালায়। এতে ৪০,০০০ এরও বেশি কাশ্মীরি মুসলমান, শিখ ও হিন্দু বর্বর পাক সেনাদের হাতে নিহত হয়েছিল। ১০,০০০ নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং ২০০০ নারীকে জোর করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কালো দিবসে পথনাটক ‘অপারেশন গুলমার্গ’ মঞ্চস্থ

১৯৪৭ সালে ২২ অক্টোবর কাশ্মীরে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর আগ্রাসনের ‘কালো দিবস উপলক্ষে পথনাটক ‘অপারেশন গুলমার্গ’ মঞ্চস্থ হয়েছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ওডিবি বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত পথনাটক পরিবেশন করেন সামাদ ভুঁইয়া ও তার দল। পথ নাটকে কাশ্মীরে পাকিস্তানের গণহত্যা এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানী বাহিনীর ‘অপাররেশন সার্চলাইট’ এর মাধ্যমে গণহত্যার বিষয়টি ফুটে তোলেন নাটকের কলাকূশলীরা। অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়। নাটকের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় গণসংগীত। ‘অপারেশন গুলমার্গ’ নাটকটি পথমূকাভিনয় আঙ্গিকে পরিবেশিত হয়। এতে অভিনয় করেন শিল্লকলা একাডেমির বেশ কয়েকটি থিয়েটারের কর্মীরা। অভিনয় করেন, উম্মে সালমা শিমু, লামিয়া আক্তার, ববি আক্তার, সুমি আক্তার, নাবিল মাহমুদ সাব্বির, আরিফ হোসেন, সাজ্জাদ মাসুদ সৌম্য, রমজান মিয়া ও আদেল। নাটকটির বিষয়বস্তু ছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর ‘অপারেশন গুলমার্গ’ এর নামে ৪০, ০০০ কাশ্মীরি হিন্দু, মুসলিম, ও শিখদের হত্যা করার কথা। এ সহিংসতায় প্রায় ১০,০০০ নারীকে ধর্ষণ করা হয় এবং ২০০০ জন মহিলাকে জোর করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪৭ সালের উপজাতীয় আক্রমণ রাতারাতি ঘটেনি, এটি কৌশলগতভাবে পাকিস্তান পরিকল্পনা করেছিল। পাকিস্তানী হানাদারদের দ্বারা বড় ধরনের অত্যাচার করা হয়েছিল, বেসামরিক লোকদের লুট করা হয়েছিল, এমনকি হাসপাতালগুলিও রেহাই পায়নি। আক্রমণকারীদের বীর কাশ্মীরিরা প্রতিরোধ করেছিল যারা শ্রীনগর বিমানবন্দর দখলের পাকিস্তানি হানাদারদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করেছিল। ধ্বংসের সেই পটভূমিতে, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজা মহারাজা হরি সিং ভারত সরকারের কাছে সমর্থন চেয়েছিলেন এবং তার রাজত্বকে পাকিস্তান এবং তার হিংস্র হানাদারদের দ্বারা লুণ্ঠিত হতে বাঁচাতে ভারতের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। এরপর ভারতীয় সেনারা পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরকে সুরক্ষিত করে। কুঠার, তলোয়ার ও বন্দুক দিয়ে সজ্জিত হাজার হাজার লস্করকে ভারতীয় সেনারা পিছনে ঠেলে দেয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, ২ পুলিশ সদস্য আহত

পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, ২ পুলিশ সদস্য আহত

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত সাজেক

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত সাজেক

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App