নাহিদ ইসলাম
বালুর ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা শেখ হাসিনার কপি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে নতুন করে ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখা শেখ হাসিনার কপি।’ একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলন দমনে পুরোনো কৌশলের অনুকরণ না করে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাশিদ আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এনসিপি নেতাদের সফরকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
হবিগঞ্জে দলের কর্মসূচিতে হামলা ও বাধার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) ব্যবহার করে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছিল। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্যের সুযোগ রয়েছে এবং বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে নব্য ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ঢাকার মাটিতে পা রাখলে ‘দেখা যাবে’।
হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পৌঁছান। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে দলীয় নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। পরে তারা সেখান থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।
এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাসেলুর রহমান।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে বুধবার হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা সেখান থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন।
মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া বলেন, বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সিলেটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা রওনা হয়েছেন। এর আগে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তারা মৌলভীবাজারে ফিরে আসেন।
বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর শ্রীমঙ্গলের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় প্রথমে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। পরে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড ও বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় আরও দুই দফা তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নাহিদ ইসলামসহ নেতারা সড়কে অবস্থান নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুমতি দেয়।
রাত ৮টার দিকে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগের বাদী ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু এবং সারোয়ার আলম।
এনসিপির সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ বলেন, সিলেটে পৌঁছে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রথমে গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত কয়েকটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর বিকেলে কানাইঘাট এবং সন্ধ্যায় ওসমানীনগরে সমাবেশে অংশ নেবেন। শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে নাহিদ ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের সুপারিশের ভিত্তিতে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের আবেদন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা। এর প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
