‘বিএনপি ১৭ বছরে হাসিনার একটা চুলও বাঁকা করতে পারেনি’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, “এরা বিগত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার একটা চুলও বাঁকা করতে পারেনি, আজকে সব সৈনিক একদম দাঁড়িয়ে গেছে!
তিনি বলেন, পারলে তখন তারা শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেখাতো। তখন একেকজন ধানক্ষেতে লুকিয়ে ছিলো, একটা ট্রাক পর্যন্ত সরাতে পারেনি। আর আজকে আমরা শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেখানে জিয়ার সৈনিকের ‘ক্ষমতা’ দেখাতে এসেছে! এই ক্ষমতা এতদিন দেখাতে পারলো না তারা?।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে হামলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এসব অভিযোগ করেন।
আরো পড়ুন: তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “তারেক রহমান আসলে কী চাচ্ছেন? তিনি কি উপরে অভিনয়ের ঢং দেখাবেন, আর ভেতরে ভেতরে ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে এমন হামলা চালাবেন? তাহলে তারেক রহমান যে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছেন, এটি তারই স্পষ্ট লক্ষণ। তিনি ছাত্রদলকে আরেকটি ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করছেন—এই ঘটনা কি তা-ই প্রমাণ করে না?”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সারজিস আলম বলেন, “আমাদের সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। আমরা শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বের হয়ে আসছিলাম। ঠিক তখনই ছাত্রদলের ২০-৩০ জন সন্ত্রাসী ‘জিয়ার সৈনিক এক হও’ স্লোগান দিয়ে আমাদের গাড়িতে রড, ইট ও পাথর ছুড়ে মারে। এই জিয়ার সৈনিকদের এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।”
গাড়ির ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “তারা ইট ও রড দিয়ে আঘাত করে গাড়ির কাচ ভেঙে দিয়েছে। কাচ ভাঙার পর গাড়ি পুরো খোলা হয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে যদি আরেকটি ইট এসে ভেতরে লাগত, আমরা সেখানে ছয়জন ছিলাম— যার মধ্যে সংসদ সদস্য ছিলো। যার গায়েই লাগত, সে স্পট ডেড হতে পারত। শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমানও এখন ছাত্রদলকে খুনি বাহিনী বানাতে চান কি না, তা স্পষ্ট করে বলুন?। যদি বাহিনীই বানাতে চায়, তহলে তারেক রহমান ঘোষণা করুক, আমরাও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেব। আমরা তো ভাবিনি যে তারেক রহমান ছাত্রদলকে এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং আমাদের এভাবে আত্মরক্ষা নিশ্চিত করে চলতে হবে।”
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা সারজিস আলম বলেন, “আজকে তো পুলিশি পাহারার মধ্যেই এ হামলা হলো! পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু নাটক দেখেছে, আর কিছুই করেনি। সামনে পুলিশের দু-একটি গাড়ি, পেছনে দু-একটি গাড়ি এবং মাঝে ৫০ জনের মতো পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে—অথচ সবাই কেবল নীরব দর্শক। সন্ত্রাসীরা যখন ইট ছুড়ছে, রড ও চাপাতি দিয়ে হামলা চালাচ্ছে, তখন তাদের একজনকেও বাধা দেওয়া হয়নি। দু’দিন আগে হবিগঞ্জে আমাদের ১৮ বছর বয়সী ভাই আলিফের চোখে রড দিয়ে আঘাত করে চোখটি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, অথচ এখন পর্যন্ত সেখানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
আরো পড়ুন: হবিগঞ্জের পর এবার গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা
তিনি আরও বলেন, “তাহলে কি এই পুলিশ এখন তারেক রহমানের পেটুয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে? শেখ হাসিনার আমলের পুলিশি ভূমিকার সাথে বর্তমানের কোনো পার্থক্য নেই। তারেক রহমান সরাসরি বলুন যে তিনি দেশে আরেকটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ও রাজত্ব কায়েম করতে চান। তাহলে আমরাও আমাদের সিদ্ধান্ত নেব, আমাদের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করব কীভাবে রাজনীতি করতে হয়।”
পরবর্তী কর্মসূচি (কানাইঘাট যাওয়া) সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম জানান, “আমরা আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একসঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।”
কানাইঘাটে যাওয়ার মতো পরিবেশ আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করতে চাই। কিন্তু তারেক রহমানের ছাত্রদল ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে। কোনো দল রাজনৈতিকভাবে আমাদের কথার জবাব দিতে পারে, আমাদের কথা অযৌক্তিক হলে জনগণ আমাদের বয়কট করবে। কিন্তু তা না করে তারা সন্ত্রাস ও স্বৈরাচারী পথ বেছে নিয়েছে—আমাদের দমন করতে ও রক্তাক্ত করতে।”
