মন্ত্রীকে হাসনাত আবদুল্লাহর চিঠি, কী লিখেছেন?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীকে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন
চিঠিতে দেবিদ্বারের বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স, অবকাঠামো, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সেবার মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ফেসবুকে চিঠিটির অনুলিপি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়।
চিঠিতে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দেবিদ্বার শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। এ কারণে উপজেলায় বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঢাকায় বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত
ডিও পত্রে দেবিদ্বারের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে অনিয়ম চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছে।
অনুমোদনহীন বা নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন এই সংসদ সদস্য। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই পরিদর্শন ও মান যাচাইয়ের কাজ শেষ করার জন্যও তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে চিঠি দেওয়ার কয়েক দিন আগে দেবিদ্বারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির অস্ত্রোপচার নিয়ে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলা সদরের একটি হাসপাতালে লিপি আক্তার নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় ভুল করে তাঁর মূত্রথলি কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়।

পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় কিছু মানুষ হাসপাতালটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া দেবিদ্বারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার মান, রিপোর্টের নির্ভুলতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মতো বিষয় নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর চিঠির অনুলিপি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, দেবিদ্বারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
