মামলার সূত্রে ঘনিষ্ঠতা, প্রবাসীর স্ত্রীসহ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আইনজীবী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
নরসিংদীতে এক কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা নগদ ও ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কুয়েতপ্রবাসী মো. লুৎফর রহমান। একই ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।
লুৎফর রহমানের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলায় দেশে ফিরে নরসিংদী জজ কোর্টে মামলা করতে গিয়ে এপিপি নয়ন মোল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি আবার প্রবাসে ফিরে যাবেন জানালে নয়ন তাকে বলেন, প্রবাসে থেকে মামলা পরিচালনা করা কঠিন হবে। তাই তার স্ত্রীকে মামলার বাদী করার পরামর্শ দেন। এরপর স্ত্রী হাফসা বেগমকে বাদী করে নরসিংদী জজ কোর্টে মামলা করা হয় এবং সেটির পরিচালনার দায়িত্ব নেন নয়ন মোল্লা।
আরও পড়ুন: ইলিয়াসকে মেঘনা আলমের চ্যালেঞ্জ
মামলা পরিচালনার সুবাদে নয়ন মোল্লার সঙ্গে তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে দাবি করেন লুৎফর। এরপর বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ নেওয়া শুরু করেন নয়ন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লুৎফর রহমানের দাবি, একপর্যায়ে তার স্ত্রী হাফসা বেগম প্রবাস থেকে পাঠানো প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা নগদ এবং ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সম্প্রতি নয়ন মোল্লার সঙ্গে চলে যান। গত ৩ আগস্ট প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিষয়টি জানতে পেরে দেশে ফেরেন তিনি।
লুৎফর জানান, তাদের ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে এবং ৮ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রবাসে শ্রম দিয়ে সঞ্চয় করা অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হারিয়ে তিনি বর্তমানে বিপাকে পড়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের অর্থ-সম্পদ ফেরত এবং ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহে টানা ৪ দিনের ছুটি, যেভাবে পাবেন
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ভূইয়া জানান, নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংগঠনের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো কারণে নয়ন মোল্লার বার সদস্যপদ বাতিল হলে তার সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদও স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে।
