প্রশ্ন রিজভীর
খুনি মোজাফফরকে দেশ-বিদেশে কারা আশ্রয় দিয়েছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় ৪৫ বছর পর মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার প্রশ্ন, এত দীর্ঘ সময় ধরে মেজর মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন এবং দেশ-বিদেশে কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের বাইরে থাকতে সহায়তা করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ ভবনে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার একজন অভিযুক্তকে চার দশকেরও বেশি সময় পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন, কারা তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে এবং কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ছিলেন- এসব বিষয়ে জাতির সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন।
একই বক্তব্যে তিনি কাদের সিদ্দিকীর অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। রিজভীর দাবি, সে সময় তিনি বিদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং অস্ত্রও পেয়েছিলেন। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, সেটিও এখন আলোচনায় আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের সময় মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদসহ বহু শিক্ষার্থী ও তরুণের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, এসব ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পরে ভারতে চলে গেছেন, তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে- দেশের মানুষ সেই প্রশ্নেরও জবাব জানতে চায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও ধৈর্যের ফল একদিন অবশ্যই পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ- এসবই প্রমাণ করে আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরো বলেন, ন্যায়ের পথে যারা অবিচল থাকে, শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হয়। তাই দলের আদর্শ ধারণ করে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরো পড়ুন: শিক্ষকদের বদলির তদবিরে অতিষ্ঠ শিক্ষামন্ত্রী
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বৃদ্ধি এবং কৃষক কার্ড চালুর মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এসব কর্মসূচির সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছালে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মতো ত্যাগী নেতাদের আত্মত্যাগ আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবন ও নির্যাতনের পর দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ কারণে তার নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো সেই চেতনার ধারক ও বাহক। বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই দলটির যাত্রা। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি কোনো আপস করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
