সংবিধান সংস্কার না হলে সমাধান রাজপথেই হবে : গোলাম পরওয়ার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ সংসদে বাস্তবায়িত না হলে এর সমাধান রাজপথে খুঁজতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে কেবল সংশোধনের কথা বলা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তার এ বক্তব্য বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত জাতীয় শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের পথ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনার পাশাপাশি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া চান।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের কনিষ্ঠ শহীদ জাবের ইব্রাহিম, আনাস ও মেহেদী হাসানসহ যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। তারা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই আদর্শকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি হওয়া আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তার দাবি, ওই গণভোটে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন সেই গণরায় অস্বীকার করা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।
তিনি আরও বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে একটি মেনে অন্যটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, সংসদে সংবিধান সংস্কার না হলে এর সমাধান রাজপথেই হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। যারা প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা অঙ্গহানি নিয়ে বেঁচে আছেন, তারা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের নম্রতাকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল হবে।’ একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, পাঁচ মাসেও সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে পারেনি। সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার চালানো সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রম সংস্কারের পরিবর্তে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজন হলে রাজপথে নামার আহ্বানও জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ রিকশা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, বাংলাদেশ কৃষি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা মুহিবুল্লাহ, বিআরইএলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল আমিন, কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, কেন্দ্রীয় পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আবু রায়হান এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ এইচ এম আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।
