শেখ হাসিনার পতন: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে এসেছিল ঘটনাপ্রবাহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিক্ষোভকারীদের ঢল গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে তিনি পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান, যার মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পালাবদল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল।
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয়, ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটায়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি ভারতে পৌঁছানোর পর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা উল্লাস প্রকাশ করেন। একই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে খালেদা জিয়া ও কোটা আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়।
আরো পড়ুন: ড. ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নিশ্চিত করলেন সেনাপ্রধান’। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন এবং দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার অঙ্গীকার করেন।
এনপিআর তাদের প্রতিবেদনে লেখে, ‘হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতন, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে সেনাপ্রধান প্রতিশ্রুতি দেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করবে না এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীরা সরকারি বাসভবনসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ করে।
আরো পড়ুন: ৫ আগস্ট হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে যা বললো ভারত
সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। একই প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে এবং শান্তি বজায় রাখতে সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
রয়টার্স শিরোনাম করে, ‘দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা জানাল সেনাবাহিনী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানির পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হাজারো বিক্ষোভকারী কারফিউ অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করেন।
এদিকে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, কয়েক সপ্তাহের গণবিক্ষোভের পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ ঘটে। সংস্থাটি জানায়, ওই আন্দোলন চলাকালে আনুমানিক ৩০০ জন নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।
পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দেশবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
