ড. ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর'। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর তিনি এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এ ঘটনার পরপরই গণভবনে প্রবেশ করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। সেখানে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
আরো পড়ুন: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।
জাদুঘরে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট স্মারক, শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি, সে সময়ের সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং অডিও-ভিডিওসহ নানা তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহও বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার তথ্য, আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র স্থান পেয়েছে।
ভবনের নিচতলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কক্ষ, বারান্দা, করিডোর এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সেই সময়ের নানা স্মৃতি, দলিল ও ঐতিহাসিক উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী জাদুঘর পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান।
বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর বৃহস্পতিবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। নির্ধারিত প্রবেশমূল্য পরিশোধ করে সাধারণ মানুষ জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
