ফের জকসু নেতার ওপর হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক মো. নূর মোহাম্মদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তার সহপাঠীদের দাবি, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নূর মোহাম্মদের সহপাঠীরা।
তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি ও কাঠের টুকরা দিয়ে নূর মোহাম্মদকে মারধর করে। এতে তিনি আহত হলে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আহত নূর মোহাম্মদ বলেন, আগের দিনের হামলায় আহত এক শিক্ষার্থীকে দেখতে তারা পাঁচজন যাচ্ছিলেন। পথে সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি লাঠি ও কাঠের টুকরা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মারধর করা হয়।
হামলায় আহত আরেক শিক্ষার্থী রাকিব শিকদার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তারা ইনকিলাব মঞ্চের পাঁচ সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ঘিরে ফেলে। তার অভিযোগ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন ভিডিও কলে কারও সঙ্গে কথা বলে হামলার নির্দেশ দেন। এরপর তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল। তিনি বলেন, আগের দিনের ঘটনার পর থেকে তিনি অসুস্থ। বিকেলের পর কলেজে সাধারণত কেউ থাকে না বলেও দাবি করেন। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
