রাষ্ট্রপতিকে চিঠি
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চায় জামায়াত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খুঁজতে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) চিঠিটি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। লাগামহীন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের জীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তেমনি শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি জনগণকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা চিঠিতে বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে নীরব থাকার সুযোগ নেই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে অর্থবহ আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।
সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী লিখিত পরামর্শ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ না দিলে রাষ্ট্রপতির পক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব নয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের নজির রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের অধিবেশনের দৃষ্টান্ত খুবই সীমিত।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে আলোচনা করতে ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল আরেকটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল।
এ ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষেও সংসদের বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের নজির রয়েছে। এসব অধিবেশনে সাধারণত বিদেশি অতিথিরা সংসদে ভাষণ দেন।
১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসিপ ব্রোজ টিটো জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। একই বছরের ১৮ জুন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরিও সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
