শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষকদের আলাদা পে-স্কেল দেওয়া হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের মতো শিক্ষকদের জন্যও পৃথক বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতির বিষয়টি প্রত্যাশিত মাত্রায় সমন্বয় করা হয়নি। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জন্য যেমন আলাদা পে-স্কেল রয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের জন্যও পৃথক বেতন কাঠামোর বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
আরও পড়ুন: হাজিরা যেভাবে টাকা পাবেন, জানালেন ধর্মমন্ত্রী
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে শিক্ষকদের। এসব সমস্যা থেকে তাদের বের করে আনতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২১ সাল থেকে শিক্ষকদের নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষের বকেয়া অংশও পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটগুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
এদিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি দিতে এ আয়োজন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিস্তৃত পরিসরে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে দুইজন, মাধ্যমিকে তিনজন, কলেজে তিনজন এবং সাধারণ, চিকিৎসা, কৃষি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একজন করে শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১২টি সম্মাননা পদক দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এ সংখ্যা পরিবর্তনের ক্ষমতা জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির থাকবে।
এর পাশাপাশি আরও বড় পরিসরে শিক্ষকদের সম্মানিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ১০০ জন গুণী শিক্ষককে নির্বাচিত করে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়া।
ড. মিলন বলেন, যারা শিক্ষা ক্ষেত্রে ভালো কাজ করছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং উৎসাহিত করা সরকারের দায়িত্ব। আগের সময়ে ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। এবার শিক্ষকদের মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতিকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গুণী শিক্ষক নির্বাচনের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়াকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
