স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজ কাজে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জামায়াত এমপির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্যান্য কাজ বাদ দিয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজে পুরোপুরি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও কর্মসংস্থানের সংকট
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে কী কী কাজের মন্ত্রী, মাঝে মধ্যে সংসদের ভেতর থেকেই তা বুঝতে আমাদের কষ্ট হয়। দেশে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, ধর্ষণ, দখল, চাঁদাবাজি ও লুটতরাজের ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং এসবের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজনও জড়িত।”
আরও পড়ুন: টিসিবির কার্ড নিয়ে নতুন নীতিমালা, অগ্রাধীকার যাদের
তিনি আরও বলেন, “দেশের সব মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এখন সবচেয়ে বড় ফরজ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়গায় জায়গায় দখল ও চাঁদাবাজির পেছনে সম্পত্তির লোভের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অভাবও একটি বড় কারণ। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগ ও যোগ্যতা বাড়াতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। শুধু ‘পারব’ বললে হবে না, সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
রাজনৈতিক দমনপীড়ন ও অতীত সংগ্রাম
সাবেক বিরোধী দলগুলোর ওপর চলা নিপীড়নের স্মৃতিচারণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির কারণে অনেকেই ঘরে থাকতে পারেননি, জেল খাটতে হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি কারাগারে ছিলেন। এত প্রতিকূলতার পরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর দেশের বাইরে কাটিয়েছেন, যাকে অতীতে গ্রেপ্তার করে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তার শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ ছিল।
ক্ষমতা হস্তান্তর ও সুষ্ঠু নির্বাচন
দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “দেশকে সঠিক পথে ফেরানোর অন্যতম রক্ষাকবচ হলো ক্ষমতার নিয়মিত ও শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর। প্রতি পাঁচ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া জরুরি। তা না হলে নির্বাচিত ব্যক্তিরা মনে করেন জনগণের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং টাকা ও ক্ষমতার জোরেই জেতা সম্ভব।”
সাংবাদিকতা ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই সনদে যেসব বিষয় নির্ধারিত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আর গোলমাল করার প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন আইন বাতিল করে নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে, যার প্রথম ভুক্তভোগী হবেন সাংবাদিকেরা। আমরা যারা মাঠে রাজনীতি করি, তাদের সঙ্গে জেলখানার দূরত্ব খুব বেশি নয়। তাই প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশ আর কতকাল এভাবে পথ হারাবে?”
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ, ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুছ ছাত্তার শাহ এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
