টিসিবির কার্ড নিয়ে নতুন নীতিমালা, অগ্রাধীকার যাদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ফাইল ছবি
ভর্তুকি বা সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ শিরোনামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করে।
আগে শুধু ‘নিম্ন আয়ের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও নতুন নির্দেশিকায় কারা কার্ড পাওয়ার যোগ্য এবং কাদের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা একদম স্পষ্ট করা হয়েছে।
কারা পাবেন টিসিবির কার্ড?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য যাদের নাম বিবেচিত হবে:
হতদরিদ্র পরিবার ও নিম্ন আয়ের ব্যক্তি
ভূমিহীন, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক
চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক ও কারখানার শ্রমিক
উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তি
কাদের দেওয়া হবে বিশেষ অগ্রাধিকার:
পরিবারের প্রধান হিসেবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তারাও বিশেষ বিবেচনায় এই সুবিধা পাবেন।
যোগ্যতার শর্ত:
আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
কার্ডের জন্য উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল একটি মোবাইল নম্বর থাকতে হবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি)।
কার্ডধারীরা যা পাবেন এবং লক্ষ্যমাত্রা
টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার নিয়মিতভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য পাবেন:
ভোজ্যতেল: ২ লিটার (প্রতি লিটার ১০০ টাকা)
মসুর ডাল: ২ কেজি (প্রতি কেজি ৬০ টাকা)
চিনি: ১ কেজি (প্রতি কেজি ৭০ টাকা)
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সর্বশেষ যা জানালেন দিনেশ ত্রিবেদী
এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রতি পরিবারকে ৫ কেজি চাল দেওয়া হবে। পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মাধ্যমে মোট ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে টিসিবিকে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হলেও চলতি অর্থবছরে তা কমে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি
টিসিবি কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকায় বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
ডিলারদের নিজস্ব দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং দোকানের সামনে স্থায়ীভাবে পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙাতে হবে।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় এবং বিক্রয়কেন্দ্র মনিটরিংয়ের জন্য থাকবে বিশেষ ‘ট্যাগ টিম’।
সব উপকারভোগীর তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস বা তথ্যাগারে সংরক্ষণ করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া বা অনিয়ম প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত কার্ড বাতিল করা হয়েছে। স্বচ্ছ ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে এখন প্রকৃত ও অসহায় মানুষের হাতে এসব কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে।
