আত্রাই জুড়ে কান্নার রোল
সৌদিতে কারখানায় আগুনে ছাই ১৩ প্রবাসীর স্বপ্ন
আব্দুল মজিদ মল্লিক, আত্রাই (নওগাঁ)
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া সেই মানুষগুলো আজ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আর আমাদের মাঝে নেই।
সৌদির একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন বলে জানা গেছে। আগুন শুধু ১৩টি প্রাণই কেড়ে নেয়নি কেড়ে নিয়েছে ১৩টি পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানদের বাবাকে, মায়ের বুকের ধনকে, প্রিয়জনের আপন মানুষকেও।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দুই ছেলে মোহন এবং সুমনকে হারিয়ে বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে। এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাই নিহত হন। এ ছাড়া এই গ্রামের আরও দুইজন এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ডেভিড বার্গম্যানের কলাম: হেফাজত হত্যাকাণ্ড কি আসলেই ‘গণহত্যা’ ছিল?
সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন বলেন, ‘কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি। “ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো।” যখন আগুন লেগছে, তখন ওই ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলে “মারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।”’
তিনি আরও বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে এনে দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনকে আমার বুকে এনে দে বাবা রে...। মোহন বলতেছিল— “এসে বিয়া করমু মা। মেয়া-টিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন, পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিন ছেলে মো.জালাল, বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন, একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে, মো. হাসিবুল হাসান শুভ, কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের, মো. গুফফার প্রামানিকের দুই ছেলে, মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক, একই গ্রামের জান্নার ছেলে, মো. রুবেল হোসেন, মো. ফজলুর ছেলে, মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক, বিশা ইউনিয়নের সাধনগর গ্রামের
মো. সাগর হোসেন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের মো.ময়েন শেখ এর ছেলে, মো. ফরিদ শেখ, বিশা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে, মো. মজিদুল ইসলাম, বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা, পাঁচুপুর ইউনিয়নের মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের, মো.মিনহাজ, বিশা ইউনিয়নের খরসুতি গ্রামের মো. মহিদুল ইসলাম।
