ক্লিনিকে অব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
প্রয়োজনীয় নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট ও দক্ষ জনবল ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্তসহ ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। বাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মৃত্যু ও শহরে রেফার্ডের সময় সংবাদকর্মীর করা ভিডিও ডিলিটের চেষ্টায় জনমনে নানান প্রশ্ন দানা বাঁধছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। সিভিল সার্জনের টিম তদন্ত করছেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাঘার জননী ক্লিনিকে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর মুমূর্ষু অবস্থায় নবজাতককে দ্রুত রাজশাহী শহরে রেফার্ড করার পর চিকিৎসা নেওয়ার আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী সিভিল সার্জনের নির্দেশে একটি তদন্ত টিম জননী ক্লিনিক পরিদর্শন করে। তদন্ত টিম জানিয়েছে, তারা সিজারিয়ান অপারেশনের, নবজাতকের মৃত্যু ও ভিডিও ডিলিটের আড়ালে কী ছিল, সেই বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্তকালে তারা কোনো চিকিৎসক পাননি। নার্স পরিচয়ে ৩ জনকে পেয়েছেন। তাদের সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তদন্তের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের কলমের খোঁচায় যেন কারও মান ক্ষুণ্ন না হয়: তথ্যমন্ত্রী
এদিকে সাদা রঙের মাইক্রোতে তুলে রেফার্ডের সময় জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ ও স্থানীয় দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকার স্থানীয় সংবাদকর্মীর ধারণ করা ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ক্লিনিকে কর্মরত নার্সের মাধ্যমে ভিডিওর বিষয়টি জানার পর ঘটনা আড়াল করতে ডাঃ আকতারুজ্জামান সংবাদকর্মীকে ডেকে কথা বলার এক পর্যায়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করেন। ওই সময় সাংবাদিক আব্দুল হামিদের সাথে অশালীন আচরণও করেন তিনি।
সিজারিয়ান অপারেশনের পর ডাঃ আকতারুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, অপারেশনের পর নবজাতকের গলায় নাড়ি প্যাঁচিয়ে ছিল। শ্বাস নিতে পারছিল না। প্রাথমিক পরিচর্যার পর রেফার্ড করা হয়েছে। একই ধরনের কথা বলেছেন অ্যানেসথেসিয়ার ডাঃ তুহিন হোসেন।
এদিকে অনলাইন পোর্টালে নিউজ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবজাতকের বাবা সাদ্দাম হোসেন সাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য লিখেন, ‘ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি ওদের বিচার চাই।’ তবে পরদিন তাকে ক্লিনিকে ডেকে নিয়ে আসা হলে পরে তিনি বলেন, আমার অভিযোগ নেই।
জনগণের দাবি, জনস্বার্থে জননী ক্লিনিকের লাইসেন্স, ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা পদ্ধতি সরেজমিনে যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ হোক। জননী ক্লিনিকের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের জিজ্ঞাসা, ক্লিনিকে স্থায়ী চিকিৎসক ও সিনিয়র নার্স, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার আলাদা ওয়ার্ড, ওটি ও অপারেশনের সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সহ জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য ক্লিনিকের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস আছে কিনা? এছাড়া অপর প্রশ্নটি হচ্ছে, সংবাদকর্মীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে মুমূর্ষু নবজাতককে রেফার্ডের সময় সংবাদকর্মীর করা ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করার কারণ কী?
সংবাদকর্মী আব্দুল হামিদ জানান, ক্লিনিক থেকে শহরে রেফার্ডের সময় আমি সাংবাদিক হিসেবে ক্লিনিকের সামনে থেকে ভিডিও ধারণ করলে ডাঃ আকতারুজ্জামান আমাকে ডেকে কথা বলার এক পর্যায়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিটের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই ক্লিনিকে পূর্বেও অপারেশন পরবর্তী মৃত্যু ও জটিলতার ঘটনা ঘটেছে। নিউজ প্রকাশের পর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কমেন্ট করে এমন তথ্য জানিয়েছেন। জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আশাদ জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
