তদবির-টাকা ছাড়াই বরিশালে সরকারি চাকরি পেলেন ৫৭ জন
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০তম গ্রেডে ৫৭ জন কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, আবেদনপত্রের ৬০ টাকা ছাড়া নিয়োগ পেতে তাদের আর কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এ তথ্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কর্মচারীরা জানান, কোনো মধ্যস্থতাকারী, ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কারও কাছে চাকরির জন্য অর্থ দিতে হয়নি।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের চাপের কাছে তিনি নতিস্বীকার করেননি। বরিশালে যোগদানের পর বিভাগে শতাধিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে, তাহলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের কলমের খোঁচায় যেন কারও মান ক্ষুণ্ন না হয়: তথ্যমন্ত্রী
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা তার সুফল পেয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নবনিয়োগপ্রাপ্তরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার, মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ একাধিক কর্মচারী জানান, এর আগে তারা পাঁচ থেকে সাতবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। মেধা থাকা সত্ত্বেও তখন চাকরি হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন ও তদবির ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা আনন্দিত। তারা বলেন, চাকরি পাওয়ার জন্য কাউকে টাকা দিতে হয়নি। কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করতে চান তারা।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার বলেন, কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই যে চাকরি পাওয়া যায়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা তার বড় প্রমাণ। যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারাই জানেন কীভাবে তাদের নিয়োগ হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, এর অধীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়গুলো এবং বরিশাল সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩০ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা সময়ে বিতর্ক ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও সর্বশেষ ৫৭ জনের নিয়োগ নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
