ঠাকুরগাঁওয়ে হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আ’লীগ নেতা টিটো-আপেল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে হত্যা মামলার আসামি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো এবং ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অরুনাংশু দত্ত টিটো এবং বুধবার (১৯ আগস্ট) আব্দুল মজিদ আপেলকে পর্যায়ক্রমে জামিন দেন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ মো. জামাল হোসেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক ছিলেন এই দুই নেতা। গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁদের নামে হত্যাসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে অরুনাংশু দত্ত টিটোর নামে দুটি এবং আব্দুল মজিদ আপেলের নামে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার সবগুলোতেই তাঁরা জামিন পেয়েছেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, অরুনাংশু দত্ত টিটোর বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে জিআর-৪১১/২৪ নম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারাসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারায় মামলা রয়েছে। এ মামলায় হাইকোর্ট তাঁকে চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাঁর স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনকে এর আগে জামিন দেওয়া হয়নি। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া
অপরদিকে, চার্জশিটভুক্ত/এজাহারভুক্ত আসামি টিটো দত্ত আদালতে জামিন নিতে এলেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এছাড়া অপর মামলা জিআর-৩৮৮/২৪-এ টিটো দত্ত এজাহারভুক্ত আসামি থাকলেও পুলিশ তাঁকে বিশেষ মহলের নির্দেশে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশিট দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো হলো—
১. জিআর-৩৬৩/২৪, দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারাসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারা।
২. জিআর-৩৬৯/২৪, দণ্ডবিধির ১৪৭, ৩৪২, ৪৩৫, ৩০২, ৫০৬, ১১৪ ও ৩৪ ধারা।
৩. জিআর-৪৩৪/২৪, দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারা।
৪. জিআর-৪১১/২৪, দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারাসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারা।
উপরোক্ত মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত আব্দুল মজিদ আপেলকে জামিন দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ঠাকুরগাঁও জুলাইযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবু রায়হান অপু বলেন, ‘গত ১৭ বছর ঠাকুরগাঁওয়ের এই আওয়ামী লীগ নেতারাই আমাদের ওপর ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন, মামলা-হামলা চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁরা জামিন পান?’
আরও পড়ুন: সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ভুল সংবাদ প্রকাশ
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এটা সম্ভব হয়েছে কেবল তাদের উপার্জিত অবৈধ অর্থের বিনিময় এবং রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে। বিএনপি নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন করিয়েছেন। এটা আমাদের কাছে দিবালোকের মতো পরিষ্কার ও সত্য। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমাদের মক্কেলরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন এবং নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ ছিল। সে অনুযায়ী আমরা নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন চেয়েছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন। এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল।’
জেলা জজ আদালতের সরকারি পক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, ‘আসামিদের জামিন দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
