×

রংপুর

কালভার্ট হলো, কিন্তু ভোগান্তি গেল না

Icon

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

কালভার্ট হলো, কিন্তু ভোগান্তি গেল না

ছবি: ভোরের কাগজ

গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ৯টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তিন অর্থবছর শেষে সেই প্রকল্পের আটটি কালভার্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি রাজারহাট ইউনিয়নের নাটুয়া মহল পরেশের বাড়ি সংলগ্ন কালভার্ট। কালভার্টি দিয়ে চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক না থাকায় পাঁচ গ্রামের চার হাজার মানুষের গলার কাঁটা হয়ে আছে এটি।

প্রকল্পটির নথি অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাটুয়া মহলের এই কালভার্টি নির্মাণের জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই এই কালভার্টের বরাদ্দের ২৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থ প্রদান করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের জন্য পুরোনো কালভার্টটি ও সড়ক ভেঙে ফেলে ঠিকাদার। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ রাখার পর চার মাস আগে ঠিকাদার কালভার্টির কাজ শেষ করেন। কাজ শেষে পুনরায় সড়কটি নির্মাণ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা করেননি। পরবর্তীতে সড়ক থেকে কালভার্টে ওঠার জন্য বাঁশ দিয়ে একটি উঁচু মাঁচা তৈরি করে দেন তারা।

ছবি: ভোরের কাগজ

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেছেন, এই আস্তা দিয়া চার হাজার লোক যায় পুত্যিকদিন। আস্তা হামার কাটি ব্রীজ বানাইছে এলা আর আস্তা না করি দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা পরেশ বর্মন বলেছেন, আগোততো আস্তা আচিল,ব্রীজ কোনা ভাঙ্গা আছিল তাও হাঁটা গেইছে। এলা ব্রীজ আছে তা আস্তা নাই। হাঁটি কুদি এলা। চৌদ্দ মুল্লুক ঘুড়ি যাওয়া নাগে। লাভ কি হইল তা। জনগণের টাকার বারোটা বাজাইছে।

অটোচালক গোবিন্দ চন্দ্র বলেছেন, এক-দেড় হাত উঁচা হইলে তাও যাওয়া গেইল হয়। ৬ ফিট উঁচা ক্যামনে কি করি। ওই জন্যে ৩ কিলো ঘুরি যাই সিংগারডাবড়ী। সুশীল চন্দ্র রায় বলেছেন, "মোর ব্যাটার বউ পোয়াতি প্যাটের বিষ উঠছে অ্যাম্বুলেন্স ডাকাইছি। ঘুরি ঘুরি আইসা খায় জন্যে নাই আইসে। পরে অটোত করি ধরি গেইছি। কাইয়ো অসুস্থ হইলে তাড়াতাড়ি নিয়ে যামো সেই উপায়ও নাই।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, এই রাস্তা দিয়ে শামকালিয়া, রামপাড়া, নয়াবাড়ি, পোদ্দারপাড়া ও চেতনা গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এছাড়াও সিংগার ডাবরীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, সিংগার ডাবরীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিংগার ডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু নিকেতন স্কুল, এডুকেয়ার প্রি-ক্যাডেড স্কুল এবং সিংগার ডাবরীহাট দাখিল মাদ্রাসার প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর যাতায়াত এই রাস্তা দিয়ে। 

সিংগার ডাবরীহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবনী রায় বলেছেন, "আমাদের এলাকার সব শিক্ষার্থীরা ৩ কিলোমিটার ঘুরে যাই। কেউ কেউ পায়ে হেঁটে যায়। এতে সময় বেশি লাগে। কষ্ট বেশি হয়। যদি রাস্তা ভালো হতো আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ি যেতে পারতাম।

প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, পানি থাকার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। তবে খুব শিগগিরই কাজটি শুরু করা হবে। অর্থ ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হয়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল, আলোচনায় চার নেতা

নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল, আলোচনায় চার নেতা

নতুন ইতিহাসের পথে মেসির আর্মব্যান্ড

নতুন ইতিহাসের পথে মেসির আর্মব্যান্ড

প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে কর্মচারীদের মানববন্ধন

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে কর্মচারীদের মানববন্ধন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App