পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাওয়ার পথে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। যাত্রীদের বেশির ভাগই বিদেশি পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের ইকা বিভাগের পিসকো থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের কর্মকর্তা মেজর জর্জ অন্দ্রেদে জানান, বিমানটিতে থাকা ১১ জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান চালানোর সুযোগ ছিল না। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
আরো পড়ুন : পাকিস্তানে তুষারধসে নির্মল পুরজাসহ নিহত ১০
নাজকা লাইনস পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে আন্দিজ পর্বতমালার কাছাকাছি অবস্থিত। বিশাল আকারের এই ভূ-চিত্রগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এগুলোর ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণে ইউনেস্কো এগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইউনেস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, নাজকা লাইনস বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানে বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ, কাল্পনিক অবয়ব এবং কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত জ্যামিতিক নকশা রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে প্রাচীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। বিশাল আকৃতির এসব চিত্র পুরোপুরি দেখতে আকাশপথই সবচেয়ে উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ছোট বিমানে করে নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যান।
পেরুর বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ঐতিহাসিক মাচু পিচু, কুস্কো এবং নাজকা লাইনস দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।
