বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমছেই না। এবার মাঠে নামার আগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। দেশটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে ম্যাচ চলাকালীন কোনো অস্বীকৃত পতাকা দেখানো হলে বা ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হলে তৎক্ষণাৎ ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানানো হবে। ইরান আর কোনো মতেই সেই ম্যাচ খেলবে না।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে ইরান থাকছে মেক্সিকোয়, আর ম্যাচ খেলছে আমেরিকায়। খেলে শেষ হলেই ফিরে যাচ্ছে মেক্সিকোতে। এছাড়াও ইরানের অনেক সমর্থক ম্যাচ দেখতে আসার ভিসা পাননি।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামাল বলেছেন, ‘আমরা ফিফাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, কোনো ধরনের অস্বীকৃত পতাকা আনা হলে বা ইরান মাঠে খেলার সময় জাতীয় দলের বিরুদ্ধে স্টেডিয়ামে কোনো স্লোগান দেওয়া হলে, দলের কোচ ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করবেন।’
মিশরের বিরুদ্ধে সিয়াটলে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে ইরান। সেই ম্যাচকে ‘গর্বের ম্যাচ’ বলে ঘোষণা করেছে তারা। দোনিয়ামালি জানিয়েছে, সেই ম্যাচে কোনো বিরূপ ঘটনা যাতে না ঘটে তার খেয়াল রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের তরফে।
দোনিয়ামালির কথায়, ‘আমাদের বলা হয়েছে, কোনো ধরনের খারাপ ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না মিশর ম্যাচে।’ ইরান প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ১৫ জুন। এর পর বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলবে তারা।
এদিকে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন অভিযোগ করেছে, এই সিদ্ধান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং সমর্থকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংগঠন ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি দায়ের করে।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে বেশ কয়েকটি শর্তও দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দল যে শহরগুলোতে খেলবে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের পর এই দাবিগুলো আরও গুরুত্ব পায়।
