বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ, চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি তুহিন আহম্মদ হৃদয়কে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তুহিন আহম্মদ হৃদয় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার উত্তর দেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও মো. দুলু মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী তরুণী ও অভিযুক্ত তুহিন সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। একই গ্রামের পাশাপাশি বসবাসের সুবাদে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে তরুণীকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণী কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে অভিভাবকদের মতামত ছাড়া বিয়েতে রাজি নন বলে তরুণী জানিয়ে দেন। এরপর গত বছরের ১৩ জুলাই দুপুরে তরুণী একা ঘরে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ঘরে প্রবেশ করে দ্রুত বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত একাধিকবার তরুণীকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যান।
পরে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে তারা দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করে তরুণীকে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলে সেখানে অভিযুক্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
র্যাব জানায়, সিপিএসসি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানার আম্বরখানা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার একমাত্র আসামি তুহিন আহম্মদ হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
