ভেঙে গেল খোয়াই নদীর ২ বাঁধ, হবিগঞ্জে প্লাবিত ১৫ গ্রাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর দু’টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে অন্তত ১৫টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এদিকে, লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জে বাঁধ ভাঙার পর নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর ও বনদক্ষিণসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে দ্রুত পানি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িঘরে ইতিমধ্যে কোমরসমান পানি জমে গেছে। আকস্মিক এই প্লাবনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছোটেন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে, আবার কেউ কেউ স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া, জেলা শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকার কয়েকটি ঘরেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
রাত বাড়ার সঙ্গে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে গেছে। সড়কের কয়েকটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙন আবারও তীব্র হয়েছে। পানির চাপ বাড়ায় ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাসপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনাও হুমকির মুখে। খোয়াই নদীর মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়রা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের। পরে স্থানীয় মাদ্রাসার মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে দুর্গত এলাকার শিশু, নারী ও বয়স্কদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খোয়াই নদীর চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে সন্ধ্যার পর নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বাঁধ ভেঙে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি আবার বাড়লে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে দুর্গতদের জন্য এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
