মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বানের পানির স্রোতে ভেসে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত তিন দিনে জেলায় ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়া এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রতিরক্ষা বাঁধ ও উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। একামধু গ্রামের বাসিন্দা মকদ্দুস মিয়া ও গিয়াস মিয়া জানান, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
কান্দিরকুল গ্রামের পৃথ্বী রানী ও খায়রুন বেগম বলেন, বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে ভেসে মারা যান রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী (৭০)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তিনি পানির স্রোতে নিখোঁজ হন। পরে শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের বন্যার পানিতে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, রাতের অন্ধকারে আকস্মিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্করা চরম বিপাকে পড়েন। উদ্ধার কার্যক্রমও তাৎক্ষণিকভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বন্যার পানিতে ডুবে আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়েছে। রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির স্রোতে পড়ে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পাশের জেলা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে দেশের অন্তত ১৮টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মনু, ধলাই, খোয়াই এবং কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
