বৃষ্টির দিনে চা শ্রমিকদের স্বস্তি, রেইনকোট দিচ্ছে সরকার
বিকুল চক্রবর্তী, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত
চা-বাগানের শ্রমিকদের রেইনকোট দেওয়ার খবরে বাগানজুড়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। হঠাৎ বৃষ্টির জন্য পরিচিত শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল চা-বাগান। এসব বাগানে খোলা মাঠে কাজ করেন ৪০ হাজারের বেশি চা শ্রমিক। হঠাৎ বৃষ্টিতে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই ভিজতে হয় তাদের।
বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চা শ্রমিকদের বৃষ্টিতে ভেজার দুর্ভোগ কমাতে রেইনকোট দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিককে ডেকে তাদের হাতে রেইনকোট তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশে আরও ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের কোন এলাকার মানুষ কীভাবে বসবাস করছেন, তাদের কী সমস্যা ও কী প্রয়োজন- সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের সমস্যা ও তাদের চাওয়ার বিষয়টিও তিনি জানেন। রেইনকোট উপহার দেওয়ার উদ্যোগ তারই একটি প্রতিফলন।”
তিনি জানান, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০ জন চা শ্রমিককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং রেইনকোট উপহার দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল।
এ উদ্যোগের আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করতে চান, সরকার তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, “আমাদের সংসদ সদস্য যেমন সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চা শ্রমিকদের ভালোবাসেন। এতদিন পর আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলার মতো একজন মহৎ মানুষ পেয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।”
শ্রীমঙ্গল রাজঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কানাই গোয়ালা বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে জনসভায় এসে আমাদের চা শ্রমিকদের কথা বলেছেন। জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি শ্রীমঙ্গলে এসে চা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। আজ তিনি বৃষ্টিতে ভেজা চা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট উপহার দিলেন। আমার বিশ্বাস, আমাদের কথা প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে বলতে হবে না। তিনি নিজেই চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াবেন।”
এ সময় তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই তিনি চা শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। সংসদে গিয়ে তিনি প্রথমেই আমাদের চা শ্রমিকদের কথা বলেছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রেইনকোট উপহার নেওয়া চা শ্রমিকরা হলেন—মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি, মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়, কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগর চা-বাগানের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার।
এ সময় শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চা-পাতা উপহার দেন।
